বিজ্ঞাপন
বাকেরগঞ্জ পৌর এলাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম টার্নিং পয়েন্ট হলো এই বন্দর। দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক, কর্মচারী ও প্রতিদিন আসা হাজারো খরিদ্দারের পদচারণায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মুখরিত থাকে পুরো এলাকা। তাছাড়া, আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক বিবিধ কাজের তাগিদে বন্দরের পাশেই অবস্থিত উপজেলা পুলিশের সদর কার্যালয় বাকেরগঞ্জ থানায় প্রতিদিন প্রচুর মানুষের আগমন ঘটে। অথচ অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর এলাকায় বর্তমানে কার্যকর কোনো পাবলিক টয়লেট নেই।
স্থানীয় জনসাধারণের সুবিধার্থে পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় নদীর পাশে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হলেও পৌর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের উদাসীনতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেটি এখন অচল। ফলে বাধ্য হয়ে জরুরি প্রয়োজনে অনেকে স্থানীয় মসজিদের টয়লেট ব্যবহার করছেন। তবে নামাজের নির্দিষ্ট সময় ছাড়া অন্য সময়ে মসজিদের টয়লেট বন্ধ থাকায়, বাধ্য হয়ে অনেকে নদীর তীরেই প্রাকৃতিক কাজ সারছেন।
প্রতিদিন এভাবে সরাসরি উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ত্যাগের কারণে বন্দর সংলগ্ন পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকা মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এর ফলে এলাকার বাসিন্দারা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাছাড়া, ময়লা-আবর্জনা ফেলতে ফেলতে শ্রীমন্ত নদীর তীরের ঘাটলাটি এখন ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে, যার কারণে ঘাটলাটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের যোগ্যতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা অভিযোগ করে জানান, বন্দরের এই একমাত্র পাবলিক টয়লেটটি ব্যবহার করতে না পারায় তাদের প্রতিদিন নানামুখী বিড়ম্বনা ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে বাজারে আসা নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট ও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পৌর কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলসহ সাধারণ পথচারীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বাকেরগঞ্জ পৌরসভার এই পাবলিক টয়লেটের দুরাবস্থা ও জনভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন চন্দ্র পাল জানান, তিনি দ্রুত এই বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।
প্রতিবেদক- মোঃ জাহিদুল ইসলাম, বরিশাল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...