বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের জানকিপুর মহরবন এলাকার বাসিন্দা মোঃ নজরুল ইসলাম (পিতা- মৃত মান্নান) এর বাড়ির পেছনে প্রধান সড়কের পাশে বহু বছরের পুরোনো একটি সরকারি গাছ ঈদের পরদিন কেটে ফেলা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ রতন মিয়া ওরফে জংলী, ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বসাক এবং আশরাফুল মেম্বার একযোগে গাছটি কাটেন। গাছটি সরকারি সম্পত্তি হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং গাছটি গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে গ্রাম পুলিশ রতন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,“বসাক মেম্বার আমাকে ১০০০ টাকা দিতে চেয়েছিল, পরে আর দেয়নি। গাছ কেটে তারা নিয়ে গেছে। আমি বিষয়টি দফাদারকে জানিয়েছি।”
তবে দফাদার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন,“রাতে কে বা কারা গাছ কেটেছে আমি জানি না। পরদিন গিয়ে দেখি গাছ নেই। ঈদের ছুটির কারণে তখন কাউকে জানাতে পারিনি, তবে এখন বিষয়টি জানাবো।”
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন,“ঈদের পরে কোনো গাছ ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”
ইউনিয়ন প্রশাসক রাফিউজ্জামান বলেন,“ঈদের আগে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি স্থান থেকে দুটি গাছ আনা হয়েছিল, কিন্তু এই গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
অভিযোগের বিষয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আশরাফুল মেম্বার বলেন,“গাছের ডাল ভেঙে একটি বাড়িতে পড়েছিল, তাই ডাল কাটতে বলেছিলাম। পুরো গাছ কাটার নির্দেশ দিইনি।”
অন্যদিকে মোয়াজ্জেম হোসেন বসাক মেম্বার বলেন,
“গাছ কাটা হয়েছে, তবে বিষয়টি কাউকে জানানো হয়নি। তখন পরিষদ বন্ধ ছিল, এখন জানানো হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি গাছ কাটার মতো গুরুতর ঘটনায় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এ ধরনের ভূমিকা দুঃখজনক ও বেআইনি। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...