বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, নদীর পাড়ে উৎকট দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা কচুরিপানার নিচে ভাসমান একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশ্চিত হন যে মরদেহটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ গজ ভেতরে নদীতে ভাসছিল। খবর পেয়ে মহেশপুর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মরদেহটি তিন থেকে চারদিন আগের। পানিতে থাকার কারণে দেহটি পচে ফুলে উঠেছিল এবং উপুড় হয়ে ভাসছিল। দেহ তল্লাশির সময় পাওয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে মরদেহটি কোটালীপাড়ার দেবেন্দ্র নাথ জয়ধরের ছেলে রতি জয়ধরের বলে শনাক্ত করা হয়।
তিনি আরও জানান, নিহতের ভাই রনজিত জয়ধর শুক্রবার সকালে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী এসআই আলমগীর হোসেন জানান, মরদেহের ঘাড়ের বাম পাশে, ডান পাশের পাঁজরের নিচে এবং পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা গুলির আঘাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে তিনি পানিতে পড়ে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের ভাই রনজিত জয়ধর জানান, রতির দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থান করছেন এবং বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে এলাকায়। তিন মাস আগে স্ত্রী ও এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোট মেয়ে ভারতে চলে যান। সম্প্রতি গ্রামের জমি-ঘর বিক্রি করে তিন দিন আগে স্থায়ীভাবে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন রতি জয়ধর। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ যাত্রা।
শুক্রবার দুপুরে রতি জয়ধরের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ ঘর দেখা যায়। প্রতিবেশী সঞ্জয় বাইন জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামে এনে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। রতি জয়ধরের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...