বিজ্ঞাপন
২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে রোববার সকালে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটানো হয়। বর্তমানে গুরুতর আহত ওই যুবক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শরিফুল ইসলাম রুদ্রপুর গ্রামের ছাবেদ আলীর ছেলে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী শরিফুলের চাচা শুকুর আলীর রুপা পাচারের কারবার ছিল এবং শরিফুল সেখানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। এক সময় শুকুর আলীর ৯ লক্ষ টাকার রুপা খোয়া গেলে তিনি শরিফুলকে দায়ী করেন। তখন নিরুপায় হয়ে শরিফুল সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করেন। তবে পরবর্তীতে প্রকাশ পায় যে, ওই রুপা একই এলাকার আতিকুর নামে এক যুবক আত্মসাৎ করেছিলেন এবং আতিকুর নিজেও তা স্বীকার করেন। পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য আতিকুর শরিফুলকে নগদে ১ লক্ষ টাকা এবং ৫ লক্ষ টাকার একটি ব্যাংক চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় শরিফুল চেকটি নগদায়ন করতে পারেননি, যা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে আতিকুরের কাছ থেকে আরও ২ লক্ষ টাকা আদায় করেন শরিফুল।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর শরিফুল এলাকা থেকে কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজে যাওয়ার সময় আতিকুর, রশিদ ও মুকুলসহ তাদের সহযোগীরা তাকে রাস্তা থেকে তুলে রুদ্রপুর বাজারে নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। শরিফুল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত শরিফুলের পিতা ছাবেদ আলী দাবি করেছেন, তার ভাই ও ছেলের পুরনো ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে আতিকুর ও তার সহযোগীরা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এই হামলা ও চাঁদা দাবি করেছে।
এই বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, মারপিটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...