বিজ্ঞাপন
সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষক সংকট নিরসন ও পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা দূর না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা আগামীকাল কর্মবিরতি পালন করবেন। এরপরও দাবি আদায় না হলে পরদিন থেকে সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব থেকেও বিরত থাকবেন।
শিক্ষকরা জানান, দেশের অন্যান্য সমসাময়িক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ভিত্তিতে পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা, ডিগ্রি প্রদান ও পদোন্নতি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে জারিকৃত এক নির্দেশনায় চ্যান্সেলরের অনুমোদন ছাড়া এসব কার্যক্রম বৈধ হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নির্দেশনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান একাডেমিক কার্যক্রম ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষকরা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চ্যান্সেলরের অনুমোদিত সংবিধি ও বিধি না থাকলে শিক্ষাক্রম, পরীক্ষা এবং ডিগ্রি প্রদান পর্যন্ত আইনগত জটিলতায় পড়তে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের মধ্যে অধিকাংশ বিভাগেই শিক্ষকসংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক বিভাগে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক দিয়ে পাঁচটি ব্যাচের পাঠদান চালাতে হচ্ছে। এছাড়া ৫১টি শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
অন্যদিকে, খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ভাতা প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে ইউজিসির লোড ক্যালকুলেশন নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ক্লাস না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকরা।
এছাড়া, ২৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতির জন্য নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ সম্পন্ন হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এ দাবিতে ইতোমধ্যে এক শিক্ষক আমরণ অনশনে বসেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সবশেষে, দাবি পূরণ না হলে আগামী পরশু থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউন পালনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...