Logo Logo

মাগুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মসজিদের ভেতর হামলা, আহত ৩


Splash Image

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজের পর মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালানো এই হামলায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।


বিজ্ঞাপন


গতকাল শুক্রবার (১ মে) দুপুরে উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের চরজোকা গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতদের মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরজোকা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি প্রভাবশালী সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় বিএনপির সাবেক নেতা মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান দুলু।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুরে মাঠে কাজ করার সময় লাল্টু শেখ নামে এক কৃষকের ওপর হামলার মাধ্যমে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে দুপুর দেড়টার দিকে এক পক্ষ চরজোকা পশ্চিমপাড়া মসজিদের সামনে অবস্থান নিলে অন্য পক্ষের লোকজন আত্মরক্ষার্থে মসজিদের ভেতরে আশ্রয় নেন।

অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা এ সময় মসজিদের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে নির্বিচারে কুপিয়ে মোক্তার শেখ, দুলাল মণ্ডল ও রেজাউল শেখকে জখম করে। তাদের মধ্যে মোক্তার শেখের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু দাবি করেন, প্রতিপক্ষই আগে হামলা চালিয়েছে এবং সংঘর্ষের একপর্যায়ে আহতরা হয়তো মসজিদের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল।

অন্যদিকে হাবিবুর রহমান দুলু একে পূর্বপরিকল্পিত হামলা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাদের সমর্থকদের হত্যা করার উদ্দেশ্যেই মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ওসি (তদন্ত) আতাউর রহমান জানান, সামাজিক বিরোধের জেরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পবিত্র ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ ধরনের সহিংসতায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, গ্রামীণ এই দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক দ্বন্দ্বগুলো নিরসন করা না গেলে তা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

প্রতিবেদক- আলী আশরাফ, মাগুরা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...