বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সুনামগঞ্জ হাওরাঞ্চলের বন্যা সমস্যা স্থায়ী সমাধান আন্দোলন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে এ দাবি উত্থাপন করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন আন্দোলন পরিচালনা কমিটির জেলা আহ্বায়ক সৌরভ ভূষণ দেব, যুগ্ম আহ্বায়ক সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, আঞ্চলিক কমিটির সদস্য তোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক অকাল বন্যায় হাওরাঞ্চলের ৭টি জেলায় প্রায় দেড় লক্ষ একর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের এক হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ফসল হারানো এই শোক ও মানসিক চাপে অনেক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেন নেতৃবৃন্দ।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, হাওরের এই সংকট কেবল প্রাকৃতিক নয়; বরং অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী-খাল দখল, বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণেই এটি প্রকট হয়েছে। নদী ও খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলেই কৃষকের স্বপ্ন পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন সরকার স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে অস্থায়ী ও ব্যয়বহুল প্রকল্পে অর্থ অপচয় করেছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত উল্লেখযোগ্য দাবিসমূহ:
* ফসল হারানো কৃষকদের বছরব্যাপী আর্থিক সহায়তা ও পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন।
* ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সকল প্রকার সরকারি-বেসরকারি ও এনজিও ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ।
* হাওরের ইজারা ব্যবস্থা বাতিল করে সাধারণ মানুষের মৎস্য শিকারের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।
* বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।
* নদী ও জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধারে বিজ্ঞানভিত্তিক খনন এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ।
* সার, বীজ, ডিজেল ও বিদ্যুতে ব্যাপক ভর্তুকি প্রদান এবং ধান সংরক্ষণে সরকারি অটোমিল স্থাপন।
* ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোতে টেকসই গ্রামরক্ষা বাঁধ নির্মাণ।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই হাওর ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন না করলে এবং কৃষকদের রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে হাওরাঞ্চলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠ ছাড়বেন না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...