বিজ্ঞাপন
নূরজাহান গোপালগঞ্জ শহরের নবীনবাগ এলাকার শাহাবুদ্দিন সিকদারের মেয়ে।
গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ৩ মে জ্বর, কাশি ও শরীরে র্যাশ নিয়ে নূরজাহান হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। তিনি ডায়াবেটিসেও আক্রান্ত ছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জন শিশু-কিশোর, একজন নারী ও দুইজন পুরুষ। গোপালগঞ্জ ছাড়াও নড়াইল, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও খুলনা জেলার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গত ৬ এপ্রিল হাসপাতালটিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়। এরপর থেকে ১২০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়। তবে শনাক্ত হওয়া সবাই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ পর্যন্ত হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৬৬৮ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সেখানে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা সুমাইয়া আক্তার জানান, তার তিন বছর বয়সী মেয়ে খাদিজাতুল কোবরা গত ১০ দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত। প্রথমে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে বৃহস্পতিবার (৭ মে) শিশুটিকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদীঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রুমা বেগম জানান, তার ছয় মাস বয়সী মেয়ে হালিমা খানম গত ৩০ এপ্রিল থেকে জ্বরে ভুগছে। প্রথমে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে স্থানীয় এক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে সাময়িকভাবে জ্বর কমলেও কয়েক ঘণ্টা পরপর আবার জ্বর দেখা দেয়। সোমবার শিশুটির মুখে দানাদানা ওঠে এবং মঙ্গলবার শরীর ফুলে যায়। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসায় শিশুটির অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...