Logo Logo

কাশিয়ানীতে খেয়াঘাট ইজারা : দরপত্র সংগ্রহে বাঁধা ও অনিয়মের অভিযোগ


Splash Image

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র ফরম (শিডিউল) সংগ্রহে সাধারণ মাঝি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাধা প্রদান এবং নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ আবেদনকারীদের বঞ্চিত করে পছন্দের ব্যক্তিদের ইজারা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।


বিজ্ঞাপন


ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মাঝিদের অভিযোগ, কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম দরপত্র ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেছেন। গত ৩ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে শিডিউল সংগ্রহের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে তারা দাবি করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০ এপ্রিল ভাটিয়াপাড়া–জঙ্গল মুকুন্দপুর, চরভাটপাড়া এবং কলসি–ফুকরা—এই তিনটি ঘাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ঘাটের ফরম বিক্রির শেষ সময় ছিল ৩ মে। বাকি দুটি ঘাটের ফরম বিক্রির সময় যথাক্রমে ১০ ও ১৭ মে পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।

ফুকরা ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লিটন সরকার অভিযোগ করে বলেন, "নির্ধারিত সময় থাকা সত্ত্বেও সোমবার (৪ মে) কলসি–ফুকরা ঘাটের শিডিউল কিনতে গেলে নাজির জানান যে বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। পরে জানতে পারি, আগে থেকেই একজনের নামে ইজারা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা বৈধভাবে অংশ নিতে চাইলেও আমাদের সুযোগ দেওয়া হয়নি।" এই অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে গত ৪ মে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

একই অভিযোগ করেন ফুকরা খেয়াঘাটের দীর্ঘ ১০ বছরের মাঝি ইশান শেখ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "ইউএনও অফিস থেকে শিডিউল কিনতে গেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাধা দেন। তারা তাদের নিজস্ব লোক দিয়ে শিডিউল কেনান এবং আমাদের তাদের অধীনে কাজ করার প্রস্তাব দেন। আমরা রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আমাদের শিডিউল কিনতে দেওয়া হয়নি।"

অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা মোল্লা বলেন, "এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কোনো হস্তক্ষেপ বা বাধার ঘটনা ঘটেনি। নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া চলছে, কেউ শিডিউল না কিনলে সে দায় আমাদের নয়।"

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মিয়া জানান, দরপত্র প্রক্রিয়া বিধি মোতাবেক ও তিন ধাপে চলমান রয়েছে। শিডিউল বিক্রি বন্ধ রাখা বা কাউকে না দেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই। রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর বিষয়টি তার জানা নেই এবং এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় জানান, ডিসি সম্মেলনে ঢাকা থাকায় তিনি অভিযোগের বিষয়টি এখনো অবহিত নন। দপ্তরে খোঁজ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...