ইনসেটে নিহত ইকরামুল।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৯ মে) বিকেলে উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামের একটি বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে কংক্রিটের ঢালাইয়ের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইকরামুল বেনাপোল পোর্ট থানার দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুর রশিদের একমাত্র সন্তান। গত ৮ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাচ্ছিল না পরিবার।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করে। আটকদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ বসতপুর গ্রামের ওই গোয়ালঘরে অভিযান চালায়। সেখানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা মরদেহের ওপর কংক্রিটের পুরু স্তর দিয়ে ঢালাই করে রাখা হয়েছিল, যাতে কোনোভাবেই মরদেহের অস্তিত্ব বোঝা না যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ইকরামুলের স্ত্রী মুন্নি আক্তার এবং তার সহযোগীরা। অভিযোগ উঠেছে, মুন্নি কৌশলে ইকরামুলকে বিয়ে করার পর তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে আরও টাকা ও জমির দাবিতে ইকরামুলকে অপহরণ করা হয়। গত ১৪ এপ্রিল (তথ্য অনুযায়ী ৮ এপ্রিল নিখোঁজ ও ১৪ এপ্রিল হত্যাকাণ্ড) তাকে গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে গোয়ালঘরে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
শার্শা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হলেও প্রধান আসামি কাদের বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ইকরামুলের পরিবার ও এলাকাবাসী এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত মুন্নি আক্তারসহ সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...