বিজ্ঞাপন
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এই সময়ে গভীর সমুদ্রে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তবে জেলেদের অভিযোগ, সমুদ্রের নিষিদ্ধ এলাকার সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ না থাকায় তারা প্রায়ই প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হন।
স্থানীয় মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, হাতিয়ার প্রায় ২০টি ঘাটে এক লাখেরও বেশি জেলে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বিপুল সংখ্যক এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা মাত্র ২৪ হাজার ২০ জন। সরকারি সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এবার ৪ হাজার ৮৭৩টি পরিবারকে ৭৭ কেজি করে চাল সহায়তা প্রদান করা হবে।
নলচিরা এলাকার জেলে আব্দুর রব মাঝি তার দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, "মাছ ধরতে না পারায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বছরের অধিকাংশ সময় কোনো না কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকে, ফলে অল্প সময়ে মাছ ধরে ঋণের বোঝা কমানো সম্ভব হয় না। বর্তমানে আমরা চড়া সুদে ধার-দেনা করে টিকে আছি।"
উপজেলার নতুন সুইস ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক ট্রলার সাগরে যেতে না পেরে অলস পড়ে আছে। প্রতিদিন জেলেরা আশায় বুক বেঁধে ঘাটে আসলেও দিনশেষে শূন্য হাতে ফিরে যাচ্ছেন। ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি রাশেদ উদ্দিন বলেন, সরকারি সহায়তার আওতা ও পরিমাণ খুবই অপ্রতুল। এক লাখ জেলের বিপরীতে মাত্র ২৪ হাজার জেলের নিবন্ধন এবং তার চেয়েও কম মানুষের সহায়তা পাওয়া দুঃখজনক। তিনি সকল প্রকৃত জেলের জন্য জরুরি সহায়তার দাবি জানান।
হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফয়জুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রকৃত জেলেদের তালিকা পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। তালিকা প্রস্তুত হলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...