Logo Logo

ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা মামলা : আড়াই মাসেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ


Splash Image

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান।


বিজ্ঞাপন


গত ৪ মার্চ নিজ দপ্তরে এক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা। ওই রাতেই ইবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তার স্বামী। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও নির্দেশে কর্মচারী ফজলুর রহমান এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছেন। মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে ৬ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার দেখানো হলেও এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

নিহত শিক্ষিকার স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান আক্ষেপ করে বলেন, "আড়াই মাস হতে চলল, কিন্তু প্রধান আসামি ছাড়া বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের কোনো খবর নেই। চার্জশিট প্রদানের ক্ষেত্রেও কোনো অগ্রগতি দেখছি না। আমার চার সন্তানকে সামলাবো নাকি প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরবো? এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজ অবধি দাফন-কাফনের চেকটিও হস্তান্তর করেনি। আমার স্ত্রীর পাওনাদি পরিশোধের বিষয়েও তাদের কোনো সমন্বয় নেই।"

মামলার তদন্তের বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত আলামতগুলো ডিএনএ টেস্টের জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি কার্যক্রম জোরদার করা হবে। তদন্তকারী অপর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম অনেকটা গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় যা করার তা সর্বোচ্চ করছে। পাওনাদি পরিশোধের বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে ফাইলটি রেজিস্ট্রার দপ্তরে আছে; উপাচার্য মহোদয় অনুমোদন দিলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তবে এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তদন্তে ধীরগতি ও দীর্ঘসূত্রিতার ফলে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত নিহতের পরিবার ও সহকর্মীরা। তারা দ্রুত চার্জশিট দাখিল ও সকল আসামিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...