বিজ্ঞাপন
এই ধর্ষণের ঘটনায় গত বুধবার (১২ মে) আব্দুর রহমান (৬০) নামের স্থানীয় এক কবিরাজের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর- ২১, তারিখ: ১৩/০৫/২৬ খ্রিঃ। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(১) ধারায় রুজু করা হয়েছে।
সরেজমিনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সদ্য জন্ম নেওয়া ফুটফুটে এক পুত্রসন্তান নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ওই প্রতিবন্ধী তরুণী। তবে বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি নিজের সন্তানকে কোলে তুলে নিতেও পারেন না। এমনকি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্যও পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর নির্ভর করতে হয়।
ভুক্তভোগী তরুণীর মা জানান, প্রতিবেশী কবিরাজ আব্দুর রহমান তাঁর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। মেয়েটি প্রতিবন্ধী হওয়ায় সমাদর ও সঠিক উচ্চারণ করে গুছিয়ে কথা বলতে পারে না। গত অক্টোবর মাসে তার শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করার পর চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান যে মেয়েটি চার মাসের গর্ভবতী।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মেয়েটি জানায়, প্রতিবেশী ওই কবিরাজ তাকে পান খাওয়ানো ও টাকার লোভ দেখিয়ে নিজের কবিরাজি ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক এই অনৈতিক কাজ করে।
তরুণীর পরিবার আরও অভিযোগ করেন, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠক হলেও অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো সমাধান আসেনি। উল্টো ওই প্রভাবশালী পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা নিয়ে গর্ভপাত করানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা তরুণীর পরিবার প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে থানায় মামলা করতে চাইলে স্থানীয় সমাজপতিরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখায়, যার ফলে সে সময় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ ও থানায় মামলা দায়ের করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুর রহমানের আদি নিবাস খুলনা অঞ্চলে। প্রায় ১৫ বছর আগে একটি মামলার আসামি হয়ে তিনি সপরিবারে ঝিকরগাছায় চলে আসেন। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে, যাদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেরা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় বাড়িতে কেবল তিনি ও তাঁর স্ত্রী থাকেন। ঘটনার দিন তাঁর স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
তবে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুর রহমানের স্ত্রী দাবি করেন, প্রতিবন্ধী মেয়ের কথার ওপর ভিত্তি করে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ডিএনএ (DNA) টেস্টের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহজালাল আলম জানান, প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পর থেকে আসামি আত্মগোপনে রয়েছে। পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...