Logo Logo

ফরিদপুরে মা-মেয়েকে হত্যার রহস্য উদঘাটন, প্রধান অভিযুক্ত গ্রেফতার


Splash Image

ফরিদপুরের কোতয়ালী থানাধীন চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায় এক নারী ও তাঁর পাঁচ বছরের শিশু কন্যাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ মাটিচাপা দেওয়ার লোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই ক্লুলেস ডাবল মার্ডারের ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


আজ রবিবার (১৭ মে) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য ও ব্রিফিং প্রদান করেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম এবং জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পরিদর্শক মোঃ মোশারফ হোসেন (ডিআই-১)। এ সময় কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাসসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৪ মে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানাধীন চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম (৩০) ও তাঁর ৫ বছরের শিশু কন্যা সামিয়ার মাটিচাপা দেওয়া গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্বজন মোঃ লালন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আবুল বাশার মোল্লাকে।

মামলা রুজুর পর জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার বকারটিলা এলাকা থেকে মোঃ উজ্জ্বল খান (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটক উজ্জ্বল খান মা ও মেয়েকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকার আমিনবাজার এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারার সাথে উজ্জ্বলের পরিচয় এবং পরবর্তীতে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জাহানারা ও তাঁর কন্যাসন্তানকে ফরিদপুরে ডেকে আনে উজ্জ্বল। গত ৪ মার্চ রাতে কোতোয়ালী থানার কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে তাঁদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এর জেরে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উজ্জ্বল প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে পাশে থাকা অবুঝ শিশু সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর আসামি রাতেই নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ওই নির্জন ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক দুটি গর্ত খুঁড়ে মা-মেয়ের মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, মেকআপ বক্স, শিশু সামিয়ার পোশাক, একটি মালা, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গুমের কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করেছে।

উদ্ধারকৃত মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই বর্বরোচিত ও নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম ও আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...