ছবি : সংগৃহিত
বিজ্ঞাপন
ওই তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আগে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু তথ্য আমাদের কাছে ছিল। এখন নতুন করে আরও একজন পুরুষের আলামত পাওয়ার তথ্য ডিএনএ ল্যাব থেকে আমাদের দেয়া হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিন সন্দেহভাজন- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের আদেশ পেয়ে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুরকে আটক করা হয়। এরপর তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পর দিন ঢাকায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর বিকালে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। এদিন তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
সিআইডির ডিএনএ ল্যাবরেটরি অব বাংলাদেশ পুলিশের ডিএনএ পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় মোট ২৪টি আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে নিহত তনুর কালো, লাল ও হলুদ প্রিন্টের কামিজ, বেগুনি রঙের ওড়না, কালো রঙের সালোয়ার, লাল ও হালকা বেগুনি রঙের অন্তর্বাস, তনুর ৪টি দাঁত, ভ্যাজাইনাল সোয়াব, ৫ ফুট ও ১০ ফুট লম্বা খাকি ও হলুদ টেপ, পুরুষের একজোড়া ছেঁড়া জুতা, বলপেন এবং এক টুকরো কাপড় ছিল। বাকি ১৩টি নমুনা ছিল সন্দেহভাজন ১৩ ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল।
নুসরাত ইয়াসমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওড়না, সালোয়ার ও আন্ডারওয়্যারে মানুষের বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এসব আলামতের বিভিন্ন স্থানে তিনজন ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এক টুকরো কাপড়ে রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। তাতে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। সালোয়ার, ওড়না ও আন্ডারওয়্যারে পাওয়া বীর্যের সঙ্গে এই ডিএনএ প্রোফাইলের মিল নেই।
এদিকে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নতুন করে আরও একজন পুরুষের রক্ত রিপোর্ট পাওয়ায় মামলার তদন্তে আরও অগ্রগতি হয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মামলাটির তদন্ত তদারকী করা হচ্ছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। সবকিছু এখনই বলার সময় আসেনি। এখন নতুন করে আরও একজনের রক্ত পাওয়ায় সন্দেভাজনদের সাথে আরও তিন জনের ডিএনএ ম্যাচ করাতে হবে। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য ইতোপূর্বে একজনের (হাফিজুর) ডিএনএ নমুনা নেয়া হয়েছে।
এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। তবে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। সবশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...