বিজ্ঞাপন
অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই মহাসড়কে এই নিয়মিত চাঁদাবাজি চলছে এবং চাঁদার টাকার ভাগ তাদের পকেটেও যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোর ৫টার দিকে পটুয়াখালী থেকে আসা চিংড়ির রেনুপোনার একটি গাড়ি বরিশাল জিরো পয়েন্ট থেকে ধাওয়া করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোডে আটকে দেয় ছাত্রদল কর্মীরা। পরে বাসের চালক ও হেলপারকে মেরিন একাডেমির নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে গিয়ে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
পোনা ব্যবসায়ী মো. আফতাব হোসেন জানান, "ওরা প্রায় ১৬-১৭ জন ছিল। গাড়ি আটকে আমাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে বাধ্য হয়ে দুইটা বিকাশ নাম্বারে ৯৫ হাজার টাকা, নগদ ৫ হাজার এবং বিকাশ খরচসহ মোট ১ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি ও চালকদের উদ্ধার করি। ওরা আমাদের বলে এটা অবৈধ মাছ, কিন্তু এটা কোনো অবৈধ মাছ ছিল না।" বিকাশের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের একাধিক স্ক্রিনশট এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
প্রথম গাড়িটি আটকে চাঁদা আদায়ের খবর পেয়ে চিংড়ি রেনুবাহী দ্বিতীয় একটি কালো রঙের হায়েস মাইক্রোবাস বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে না থেমে রূপাতলীর দিকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সিগন্যাল অমান্য করায় সেখানে থাকা ছাত্রদলকর্মী ও ১০ম ব্যাচের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আরাফাত মোটরসাইকেলসহ পড়ে গিয়ে আহত হন।
এরপরই ববি ছাত্রদলের ৮-১০ জন নেতাকর্মী মোটরসাইকেল নিয়ে মাইক্রোবাসটির পিছু ধাওয়া করে। গাড়িটি রূপাতলী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে টহল পুলিশের সামনে এসে দাঁড়ালে, ববি ছাত্রদলের কর্মীরা পুলিশের সামনেই চালক ও হেলপারকে মারাত্মকভাবে মারধর করে এবং মাইক্রোবাসের গ্লাস ভাঙচুর করে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালের প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তারা নড়েচড়ে বসেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলামের কক্ষে এক জরুরি সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং ববি ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতাকে হাজির করা হয়। পরে একপ্রকার 'মীমাংসা' করেই মাছের গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগেও গত ২৯ জানুয়ারি মধ্যরাতে ভোলা-বরিশাল মহাসড়কের তালুকদার মার্কেট এলাকায় ইলিশ মাছের গাড়ি আটকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও ড্রাইভারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল এই চক্রের বিরুদ্ধে। সে সময় চালক ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের সহায়তা নিয়ে রক্ষা পান।
মহাসড়কে এই চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি মিয়া বাবুল, সহ-সভাপতি মো. মিথুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. স্বজন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান মাহমুদসহ একাধিক নেতাকর্মীর নাম সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে। তবে অভিযুক্তদের একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে ববি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান ও সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, "দলের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ অন্যায়-অনিয়ম ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকে এবং তা যদি প্রমাণিত হয়, তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা ব্যক্তিগতভাবে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেব।"
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, "মাইক্রোবাসের ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছেলে আহত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা গাড়িটি ধাওয়া করেছিল। পরে চালক ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে এবং ছাত্রদলের নেতাদের ডেকে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।" মহাসড়কে নিয়মিত চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এমন ঘটনা ঘটছে না তা বলব না, তবে এই এলাকাটি বন্দর থানার অধীন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবে।"
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...