বিজ্ঞাপন
ঈদের দিন দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে ‘ভ্রাতৃত্বের দস্তরখান’ শিরোনামে নৈশভোজের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। আয়োজনে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে, একই দিন রাত সাড়ে ৮টায় ‘বিজয়-২৪’ হলের ডাইনিংয়ে ছেলেদের দুই হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য ‘সম্প্রীতির নৈশভোজ’ আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীর জন্য এ আয়োজন উন্মুক্ত থাকবে। পাশাপাশি ছাত্রীদের নিজ নিজ হলে পৃথক ব্যবস্থার মাধ্যমে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
উভয় সংগঠনের আয়োজনে অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত ফ্রি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন ফরমে নাম, মোবাইল নম্বর, বিভাগ ও ব্যাচের তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “উভয় সংগঠনের নৈশভোজের আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে। বাড়ি না গেলে আমিও এ আয়োজনে অংশ নিতে পারি।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইত্তেসাফ-আর-রাফি বলেন, “ত্যাগ, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির মহান শিক্ষা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত পবিত্র ঈদুল আজহা। এই আনন্দ ও সৌহার্দ্য শিক্ষার্থীদের মাঝে ভাগাভাগি করে নিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘সম্প্রীতির নৈশভোজ’। ঈদের দিন ‘বিজয়-২৪’ হলের ডাইনিংয়ে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। সব ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে। এছাড়া ছাত্রীদের জন্য নিজ নিজ হলে পৃথক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আয়োজনটি সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত গুগল ফরম পূরণের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ আয়োজন করা হয়েছে। আমরা আন্তরিকভাবে সবাইকে এতে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন, ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলি।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কাগজে-কলমে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
আয়োজন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “উক্ত দুই ছাত্রসংগঠনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র ঈদের একদিন নয়, সারা বছরজুড়েই যেন সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকে—সেই প্রত্যাশা করি। এই সম্প্রীতির বন্ধন নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও এগিয়ে যাবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...