Logo Logo

জিয়াউর রহমানের দেখানো পথেই বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিতে চায় : মির্জা ফখরুল


Splash Image

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও আত্মমর্যাদার ভিত্তি উপহার দিয়েছিলেন। তাঁর দেখানো আদর্শ ও পথ অনুসরণ করেই বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিতে চায়।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর পিআইবি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় দায়িত্ব গ্রহণের সময় বাংলাদেশ নানা সংকট, অস্থিরতা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিল। সে পরিস্থিতিতে তিনি দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং দেশকে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “শহীদ জিয়া বাংলাদেশকে কোনো দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাননি। তিনি দেশের নিজস্ব শক্তি, সক্ষমতা এবং জনগণের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। এ কারণেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।”

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান আমাদের যে পথ দেখিয়ে গেছেন, আমরা সেই পথেই এগিয়ে যেতে চাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে দেশ পরিচালনায় কাজ করছেন, তার মধ্যেও আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতিফলন দেখতে পাই।”

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন দেশের মানুষ গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল, তখন নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতিকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি বলেন, “শৈশব থেকেই আমরা পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য, শোষণ ও বাঙালিদের ওপর নির্যাতন প্রত্যক্ষ করেছি। সে সময় মুক্তির আশায় সাধারণ মানুষ একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পরও জনগণ প্রত্যাশিত গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছে।”

পাকিস্তানি শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, “১৯৭১-পূর্ব পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন বৈষম্য ও নির্যাতনকে আমরা কখনোই ক্ষমা করতে পারি না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা করা যায় না।”

সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে এমন প্রচারণা চালানো হয়েছিল যে বিপুল ভোটে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসবে। এমনকি তাঁকে নিয়েও পরাজয়ের গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছিল। তবে দেশের জনগণ শেষ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষেই রায় দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, “জনগণ বিশ্বাস করে গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থ বিএনপির হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ।”

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, এএনএম মুনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু রূশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে তাঁর অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...