Logo Logo

সাতক্ষীরায় স্যোশাল মিডিয়ার রোষানালের শিকার ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান


Splash Image

সাতক্ষীরা শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ‘মা মটরস্’-এর স্বত্বাধিকারী জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র অপসাংবাদিকতা ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। মূলত তিন জন ক্রেতার সাথে একটি মোটরসাইকেল বিক্রয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত বিরোধের জের ধরে এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী দাবি করেছেন।


বিজ্ঞাপন


ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান জানান, তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি কোনো ধরনের সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত নন। বর্তমানে তার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যাত্রীবাহী মিনিবাস এবং তিনটি মোটরসাইকেলের শোরুম (দুটি নতুন ও একটি পুরাতন) রয়েছে। এছাড়া তিনি সাতক্ষীরা বাস মালিক সমিতির বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে জিল্লুর রহমান জানান, বিগত সরকারের আমলে তিনি বাস মালিক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো পদে ছিলেন না। তৎকালীন সময়ে রেওয়াজ অনুযায়ী সমিতির প্রত্যেক সাধারণ সদস্যকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হতো। তারই অংশ হিসেবে বিগত সরকারের সময়ে সংগঠনের তৎকালীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তার গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন। এর আগে ২০১৩ সালের ৫ জুলাই তিনি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই বছর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাস টার্মিনাল দখল করা হয় এবং বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার অপরাধে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘সালমা স্টোর’ নামক দুটি কনফেকশনারি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরবর্তীতে ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন এবং তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, গত ৩ জুন আনুমানিক বিকেল ৩টার সময় তিন জন ব্যক্তি কাটিয়া এলাকায় অবস্থিত মা মটরস্-এর পুরাতন মোটরসাইকেলের শোরুমে আসেন। সেখানে তারা একটি ‘ডিসকভার ১০০ সিসি’ মোটরসাইকেল পছন্দ করেন এবং এর মূল্য ৬৮ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়। তবে টাকা পয়সা লেনদেনের আগেই আবু সাঈদ নামে এক ক্রেতা গাড়িটির মূল কাগজপত্রের ছবি তোলা এবং ভিডিও করা শুরু করেন। শোরুমের অভ্যন্তরে এভাবে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করা হলে আবু সাঈদ ও তার সঙ্গীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং অফিসের ম্যানেজার আইয়ুব আলীর সাথে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। শোরুমের মালিক জিল্লুর রহমান উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং সংবাদকর্মী পরিচয় দেওয়া আবু সাঈদকে তার ফোনে ধারণকৃত ভিডিও চিত্র ও ছবি মুছে ফেলার অনুরোধ জানালে তারা শোরুম থেকে বেরিয়ে যান।

এর কিছুক্ষণ পর সাতক্ষীরা সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) শাহাদাৎসহ দুজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে আবু সাঈদ ও তার সঙ্গীরা পুনরায় শোরুমে আসেন। পুলিশ আসার পরপরই স্থানীয় যুবদল নেতা ফরিদও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসআই শাহাদাৎ এবং যুবদল নেতা ফরিদ উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সাধারণ ক্রেতার বক্তব্য ভিডিওতে রেকর্ড করেন। এ সময় যুবদল নেতা ফরিদ সিদ্ধান্ত দেন যে, ক্রেতা পক্ষ টাকা পরিশোধ করার পরই কেবল গাড়ির মূল কাগজপত্র সরবরাহ করা হবে এবং পরবর্তীতে ক্রেতা পক্ষ তা বিআরটিএ (BRTA) থেকে যাচাই করে নিতে পারবেন। এই যাচাইয়ের সময় শোরুমের একজন প্রতিনিধি ক্রেতাদের সাথে থাকবেন।

ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমানের অভিযোগ, এই ঘটনার পর একটি ফেসবুক আইডি থেকে ‘সাতক্ষীরার মা মটরস্ এ ক্রেতা লাঞ্ছিত ও হুমকি, উদ্ধার করলো পুলিশ’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেওয়া হয়। যেখানে তার এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়ানো হয়েছে। আবু সাঈদ তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন যে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করেছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শাহাদাৎ এবং যুবদল নেতা ফরিদ এর প্রত্যক্ষ সাক্ষী। মূলত সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার অপচেষ্টায় আবু সাঈদ এই মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছেন। একই সাথে শোরুমে ক্রেতাকে হয়রানি, হুমকি ও লাঞ্ছিত করার দাবি এবং অতীতে জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও মাদক কারবারের খবর প্রকাশের যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

ফেসবুকে একটি মালা পরার ছবি পোস্ট করে জিল্লুর রহমানকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং হলুদ সাংবাদিকতার শামিল। অতীতে বাস মালিক সমিতির নির্বাচিত কমিটি কর্তৃক ২৮৮ জন সাধারণ সদস্যের সাথে তাকেও ফুলের মালা পরিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল। সেই পুরনো ছবিকে এখন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। এছাড়া বিগত করোনাকালীন সময়ে তিনি নিজ উদ্যোগে অসহায় মানুষের মাঝে রান্না করা যে খিচুড়ির প্যাকেট বিতরণ করেছিলেন, সেই মানবিক কর্মকাণ্ডের ছবিকে এখন শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর খিচুড়ি বিতরণের ছবি বলে চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

জানা গেছে, ঘটনার দিন শোরুমে আসা যুবদল নেতা ফরিদ তাৎক্ষণিকভাবে জিল্লুর রহমান এবং সংবাদকর্মী আবু সাঈদকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি শোরুমে বসেন এবং পারস্পরিক বিরোধটি মিটিয়ে দেন। সেখানে ভদ্রতার খাতিরে জিল্লুর রহমান সংবাদকর্মী আবু সাঈদের কাছে দুঃখ প্রকাশ (সরি) করেন এবং বিষয়টি ওখানেই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

এ বিষয়ে যুবদল নেতা ফরিদ জানান, “শীর্ষ নেতা মাছুম বিল্লাহ শাহীন ভাইয়ের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি সদর থানার এসআই শাহাদাৎ ফোর্সসহ উপস্থিত আছেন। তিনি ক্রেতা ও বিক্রেতাসহ উপস্থিত সবার বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করেন এবং বিষয়টি আমাদের মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী একটি শোরুমে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসি এবং জিল্লুর রহমান বিরোধ নিষ্পত্তির স্বার্থে আবু সাঈদের কাছে ক্ষমা চাইলে বিষয়টি ওখানেই মীমাংসা হয়ে যায়।”

সাতক্ষীরা সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) শাহাদাৎ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনার দিন তথ্য পেয়ে মা মটরস-এর শোরুমে গিয়ে আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনি। বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য দুই পক্ষকেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ দায়েরের কথাও বলা হয়েছিল।”

অন্যদিকে, সংবাদকর্মী আবু সাঈদ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “আমি আমার দুজন নিকটাত্মীয়কে নিয়ে মা মটরস্-এ একটি পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয় করতে যাই। ডিসকভার ১০০ সিসি গাড়িটি পছন্দ হওয়ার পর ৬৮ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারিত হয়। এরপর বিআরটিএ অফিসে যাচাই করার জন্য গাড়ির কাগজপত্রের ছবি তুলতে গেলে মালিকপক্ষের লোকজন আমাদের তিন জনকে মারধর করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আমি সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...