বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম কার্যদিবসে অর্থমন্ত্রী সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করেন।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংশোধিত বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বৈশ্বিক অস্থিরতা ও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কাঠামোর বিভিন্ন দুর্বলতা কাটিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন খাতে ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের প্রয়োজন হলেও সরকার সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও বিস্তৃত করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির ব্যয় নির্বাহের প্রয়োজনেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির কিছু সমন্বয় করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে সংসদের কার্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়সংক্রান্ত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় স্পিকার জানান, সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচনা করা গেলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত নয়।
স্পিকার আরও বলেন, এবারের সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের সদস্য বেগম রুমিন ফারহানা ও শাহজাহান চৌধুরীসহ ২০ জন সংসদ সদস্য মোট ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ জমা দিয়েছেন।
তিনি জানান, অনুপস্থিত কোনো সদস্যের পক্ষে ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপনের সুযোগ নেই। সংসদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সব সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।
নির্ধারিত সময় বিবেচনায় নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ মোট আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয় খাতে ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনার তালিকা দেওয়া হয়েছে।
স্পিকার জানান, তালিকাভুক্ত এসব খাতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, অবশিষ্ট মঞ্জুরি দাবিগুলো সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...