বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহতের মা আফরোজা বেগম, ভাই মো. এনামুল হক, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, আব্দুল মাজেদ এবং স্থানীয় বাসিন্দা নাসির হোসেনসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা জানান, গত ১ জুন বিকেলে রেজাউল করিম তার বাড়ির পাশবর্তী মাগুড়া ইউনিয়নের গড়েরপাড় গ্রামে ফুপুর বাড়িতে দাওয়াতে যান। সেখানে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার ফুপা আমিনুর রহমানের ভাইদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করে এবং মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউল করিমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন ২ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় একই দিন নিহতের ছোট ভাই আব্দুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-১। মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
সমাবেশে নিহতের ছোট ভাই আব্দুল ওয়াদুদ অভিযোগ করে বলেন, “মামলার আসামি মো. রাকিব ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, আব্দুল আজিজ ও আক্তারুজ্জামান বিদেশে লোক পাঠানোর নামে ভিসা প্রতারণা এবং থাই জুয়ার সঙ্গে জড়িত। প্রতারণার মাধ্যমে তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অর্থের প্রভাব খাটিয়ে তারা আইনের আওতার বাইরে থাকার চেষ্টা করছেন।”
বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পরও অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
নিহত রেজাউল করিম মাগুড়া ইউনিয়নের দোলাপাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে। তিনি দোলাপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বলেন, “ঘটনার পর দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...