বিজ্ঞাপন
কিন্তু এমন উজ্জ্বল সাফল্যের পরও শয়নের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উচ্চশিক্ষার বড় অংকের ব্যয় বহনের মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই তার পরিবারের। ফলে অর্থের অভাবে চিকিৎসক হওয়ার রঙিন স্বপ্ন শুরুতেই থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার দারিয়াড়কুল গ্রামের অধিবাসী শয়ন রাহা। তার বাবা মৃত বিপুল রাহা ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যান। পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম অভিভাবককে হারানোর পর সংসার পরিচালনার সব চাপ এসে পড়ে মা কমলা রাহার কাঁধে।
একটি মাত্র সেলাই মেশিনই এখন এই পরিবারের একমাত্র ভরসা। দিনরাত সেলাইয়ের কাজ করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই অতি কষ্টে সংসার চালানোর পাশাপাশি শয়নের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন তার মা। পরিবারটির আর্থিক অবস্থা কতটা নাজুক, তা তাদের জরাজীর্ণ একটি মাত্র ঘর দেখলেই বোঝা যায়। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরের চালে পানি পড়ে। নেই কোনো কৃষিজমি কিংবা স্থায়ী আয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো পথ।
এতসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি মা কমলা রাহা। মায়ের আত্মত্যাগ আর নিজের কঠোর পরিশ্রমে এই অভাবনীয় ফল উপহার দিয়েছে শয়ন। তবে শিক্ষাজীবনের এই সাফল্য তার জন্য শুধুই একটি পরীক্ষার ফল নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
শয়নের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নের নেপথ্যে রয়েছে বাবাকে হারানোর এক গভীর বেদনাদায়ক স্মৃতি। উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে বাবাকে চোখের সামনে মারা যেতে দেখে ব্যথিত শয়ন শপথ নেয়—ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসাসেবা না পাওয়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে সে।
কিন্তু মেডিকেল শিক্ষার দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ পাড়ি দেওয়া শয়নের দিনমজুর মায়ের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। বালাডাঙ্গা এস.এম. মুসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার মন্ডল জানান, শয়ন অত্যন্ত মেধাবী ও পড়াশোনায় আন্তরিক। বিদ্যালয় থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হয়েছে, তবে তার উচ্চশিক্ষায় এখন সরকারি ও সমাজের বিত্তবানদের বড় সহযোগিতা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে, দারিদ্র্যের কারণে শয়নের মতো মেধাবী কিশোরের ঝরে পড়া হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। তার পাশে দাঁড়ানো মানে একটি পরিবারকে রক্ষা করার পাশাপাশি দেশের জন্য একজন আদর্শ চিকিৎসক গড়ে তোলা। পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংস্থাগুলো শয়নের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসবে।
দারিদ্র্য যতই বাধা হয়ে দাঁড়াক না কেন, শয়ন থামতে চায় না। তার একটাই আকুতি—অর্থের অভাবে যেন পড়াশোনা বন্ধ না হয়ে যায়।
শয়নের পড়াশোনা ও স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ: ০১৭৩৬৩২৩৮১১।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...