বিজ্ঞাপন
অভিযোগে জানা যায়, স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোঃ মোশারফ হোসেন জোড়া দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে সদর উপজেলার মূল পদে নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না। ফলে তিনটি স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদের দায়িত্ব মূলত দুজনকে পালন করতে হচ্ছে। এতে ৩৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৩৩টি প্রসারিত টিকাদান (ইপিআই) কর্মসূচি এবং ১১টি ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা তদারকিসহ বিভিন্ন মাঠপর্যায়ের কাজে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পদের আওতায় নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও তদারকি করার কথা থাকলেও মোশারফ হোসেন বিভিন্ন উপজেলায় সভা-সমাবেশ ও অন্যান্য কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকেন। পাশাপাশি সরকারি দায়িত্বের আড়ালে ব্যক্তিগত আপ্যায়ন ও ভোজে অংশ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
প্রতিবেদনে কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৩ জুন কসবা উপজেলায় মাসিক সমন্বয় সভার নামে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে তিনি সংগঠনের নেতাদের কাছ থেকে ফুলেল সংবর্ধনা নেন এবং পরবর্তী সময়ে নৈশভোজে অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০ জুন সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অন্য সঙ্গীদের নিয়ে সিলেটের সাদাপাথর এলাকায় এক আনন্দ ভ্রমণে অংশ নেন তিনি।
এছাড়া গত ১৮ জুলাই আশুগঞ্জ উপজেলায় বৈঠকের কথা বলে অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক মনির হোসেন, সাহেদ, এমদাদ ও গোলাম রসুল সহ কয়েকজনকে নিয়ে সরকারি গাড়িতে যান এবং সেখানে ভূরিভোজে অংশ নেন বলেও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। মোশারফ হোসেন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. নোমান মিয়া জানান, জনবল সংকটের কারণে মোশারফ হোসেনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি দায়িত্বে অবহেলা করলে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকলে বিষয়টির সুনির্দিষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, তিনি নিজের মূল পদের পাশাপাশি অর্পিত অতিরিক্ত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন এবং কোনো প্রকার অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...