ছবি : সংগৃহিত
বিজ্ঞাপন
রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার কোনো নদীর পানি এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে সুরমা, কুশিয়ারা, গোয়াইন ও পিয়াইন নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানির সমতল বাড়ছে।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্ট। সেখানে বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার হলেও সকাল ৯টায় পানির সমতল ছিল ১২ দশমিক ১৪ মিটার। অর্থাৎ পানি বিপদসীমার মাত্র ৬১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে এই পয়েন্টে পানি বেড়েছে ১২ সেন্টিমিটার।
একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ৯ দশমিক ৩০ মিটার। সেখানে বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার। ফলে পানি এখনো বিপদসীমার দেড় মিটারের মতো নিচে রয়েছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কানাইঘাট এলাকায় ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা জেলার পর্যবেক্ষণাধীন পয়েন্টগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। সিলেট শহর এলাকায় একই সময়ে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২ মিলিমিটার।
কুশিয়ারা নদীর পরিস্থিতি মিশ্র। শেওলা পয়েন্টে পানি বেড়েছে। সেখানে সকাল ৬টায় পানির সমতল ছিল ১১ মিটার, যা সকাল ৯টায় বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৫০ মিটার। যদিও এ পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ০৫ মিটার।
অন্যদিকে কুশিয়ারার ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর পয়েন্টে পানি কিছুটা কমেছে। ফেঞ্চুগঞ্জে সকাল ৬টায় পানির সমতল ছিল ৯ দশমিক ৯৪ মিটার, যা তিন ঘণ্টা পর নেমে আসে ৯ দশমিক ০৪ মিটারে। শেরপুর পয়েন্টে পানির সমতল ৭ দশমিক ৪৫ মিটার থেকে সামান্য কমে ৭ দশমিক ৪৪ মিটারে দাঁড়িয়েছে। দুটি পয়েন্টেই পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে।
সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানি ছিল ১০ দশমিক ৭৮ মিটার, যেখানে বিপদসীমা ১২ দশমিক ০৫ মিটার। একই নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টে পানি ৯ দশমিক ০৮ মিটার থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩১ মিটারে পৌঁছেছে। তবে সেখানেও পানি বিপদসীমার অনেক নিচে রয়েছে।
পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির সমতল ছিল ১০ দশমিক ৪৯ মিটার। তিন ঘণ্টা পর তা বেড়ে ১০ দশমিক ৮২ মিটারে দাঁড়ায়। এ পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ মিটার।
ধলা নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে পানির সমতল সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১০ দশমিক ১৭ মিটারে পৌঁছেছে। তবে এ নদীর জন্য কোনো বিপদসীমা নির্ধারিত নেই। লোভাছড়া নদীর পর্যবেক্ষণ পয়েন্টের সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং স্থানীয় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে পানির সমতল আরো বাড়তে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে সিলেট অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...