বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে জিসানুর রহমান দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। তিনি অভিযোগ করেন, মাছের প্রদর্শনীর বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা মৎস্য অফিসে গেলে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। চারটি ইউনিয়নের প্রদর্শনীর আবেদন করিয়ে তিনটি প্রদর্শনী দেওয়ার আশ্বাসের বিপরীতে অফিস খরচের কথা বলে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরে টাকা ফেরত চাইলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
জিসানের অভিযোগ, তিনি কথোপকথন মোবাইলে ধারণ করতে গেলে তার ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এরপর অফিসের কয়েকজন কর্মচারী তাকে মারধর করেন, পেপার ওয়েট দিয়ে আঘাত করেন এবং তার গলায় থাকা প্রায় সাড়ে ছয় আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিঁড়ে নেওয়া হয়। ধস্তাধস্তির সময় টেবিলের ওপর থাকা কম্পিউটার পড়ে গেলেও তিনি কোনো ভাঙচুর করেননি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, পরে অন্যান্য অফিসের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। অফিস সহকারী জামশেদ জানান, আবু রায়হান ছুটিতে রয়েছেন। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামশেদ দাবি করেন, ঘটনার দিন উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হলেও অফিসের কেউ জিসানকে মারধর করেননি। তিনি জিসানের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। মোবাইল ফোন ভাঙার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান।
পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগের কোনো প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপন করা হোক। সরকারি কাজে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বাদী হয়ে জিসানুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, মারধর ও অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...