Logo Logo

পাইকগাছায় ব্রিজের কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোয় চলছে পারাপার


Splash Image

খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মাণাধীন শালিখা সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে এসে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভাঙাচোরা অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন হাজার হাজার মানুষ।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসমাপ্ত রেখে সাইট ছেড়ে চলে গেলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বাঁকা-পাটকেলঘাটা সড়কে কপোতাক্ষ নদের ওপর প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর। প্রকল্প অনুযায়ী ২০২৩ সালের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও সেতুর মাত্র ৬৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৪ কোটি ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭২৩ টাকা বিল উত্তোলন করে। পরে রাতের আঁধারে প্রতিষ্ঠানটির লোকজন ও নির্মাণযন্ত্রপাতি সাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় তালা উপজেলার খেশরা, শালিখা, বালিয়া, জালালপুর ও মাগুরা ইউনিয়নের বাসিন্দারা প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করে নদী পারাপার করছেন। শুধু পথচারীই নন, সাইকেল, ভ্যান, ইঞ্জিনভ্যান এবং মোটরসাইকেলও ওই অস্থায়ী সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কাটিপাড়া বাজার, বাঁকা বাজার, পাইকগাছা, কয়রা, আশাশুনি এবং সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এলজিইডি সূত্র জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হলেও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে ২০২৩ সালের ১০ মার্চ ২৮ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে কার্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'এস এ-জেডটি (জেভি)' সম্পূর্ণভাবে সাইট ত্যাগ করে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'এস এ-জেডটি (জেভি)'-এর ঠিকাদার জিয়াউল হাসান টিটুর বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তালা উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব বলেন, “আপাতত শালিখা ব্রিজের কাজ বন্ধ রয়েছে। আমরা বারবার কার্যাদেশ বাতিলের জন্য জেলা অফিসে সুপারিশ করেছি। কাজটি বাতিল হলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।”

পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় দুই উপজেলার মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে উধাও হয়ে গেলেও প্রশাসনিকভাবে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় কবে নাগাদ সেতুটি সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...