Logo Logo

পাথরঘাটায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, প্রায় অর্ধশত দোকান পুড়ে ছাই


Splash Image

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের লেমুয়া বাজারে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় অর্ধশত দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ব্যবসায়ীদের কয়েক কোটি টাকার মালামাল, নগদ অর্থ ও দোকানের আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটের দিকে বাজারের রবিন নামের এক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের নীরবতায় হঠাৎ একটি দোকান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার, তেল ও দাহ্য পদার্থের দোকান থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পরে বামনা ও মঠবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটও যোগ দেয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর তিনটি ইউনিটের সমন্বিত অভিযানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী যুবদল নেতা ইব্রাহিম খলিল বলেন, "ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মানুষের চিৎকার শুনে বাজারে এসে দেখি আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছুই বের করার সুযোগ পাইনি। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেছে।"

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, "যদি ফায়ার সার্ভিস আরও দেরিতে আসত, তাহলে হয় তো পুরো বাজারই পুড়ে যাওয়ার সম্ভবানা ছিলো। স্থানীয়রাও অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু আগুনের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি।"

আরেক ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমাদের সারা জীবনের উপার্জন এই দোকানের ওপর নির্ভরশীল। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম। সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার দাবি জানাচ্ছি।"

ঘটনার পরে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম সহ উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...