বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে দেশব্যাপী এই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় গতি আনতে শিক্ষার্থীপ্রতি বার্ষিক চাঁদার হার ৪ টাকা বাড়িয়ে ১০ টাকা নির্ধারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিভিন্ন স্তরে ভর্তি বা নিবন্ধনের সময় বছরে ৬ টাকা করে ফি নেওয়া হতো। তবে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক এই চাঁদা ১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বর্ধিত চাঁদার সমপরিমাণ অর্থ সরকারি তহবিল থেকেও প্রদানের ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের সভায় বিএনসিসি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে দেশব্যাপী ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ, ক্যাম্পিং ও প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও নতুন অর্থায়ন জরুরি হয়ে পড়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিএনসিসির ভূমিকা অপরিসীম। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে উপজেলা পর্যায়ে পাইলট ভিত্তিতে বিএনসিসি কার্যক্রম শুরু এবং পরবর্তীতে সারা দেশে তা বিস্তৃত করার নির্দেশ দেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি, ঝরে পড়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি দূর করতে এ জাতীয় শক্তিশালী সহশিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত সময়োপযোগী।
সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসাসহ কয়েকটি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে নতুন প্লাটুন চালুর প্রাথমিক প্রস্তুতি ও পরিদর্শনের কাজ শুরু হয়েছে। সাধারণত একটি পূর্ণাঙ্গ প্লাটুন গঠনে ৩ থেকে ৫ হাজার শিক্ষার্থীর প্রয়োজন হয় বলে পরীক্ষামূলকভাবে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জানান, মাদ্রাসায় বিএনসিসি চালু হলে শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাসের চর্চা করতে পারবে। পাঠ্যবইয়ের বাইরে তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখতে এবং দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস. এম. তৌহিদুজ্জামান জানান, নীতিগত সিদ্ধান্তের পর এখন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিগগিরই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...