বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘোনাপাড়া শহীদ গুলজার গার্লস হাই স্কুল সংলগ্ন খালটির সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াই এই দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতার মূল কারণ। সিএস এবং আরএস রেকর্ড অনুযায়ী এটি সরকারি খালের জায়গা হলেও সেখানে স্কুল ভবন এবং একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে খালের মুখ গিলে খাওয়া হয়েছে। খালের জায়গায় নির্মিত স্কুল ভবনটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও মুখ বন্ধ থাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক সংযোগটি আর কাজ করছে না। দেশে যখন নদী ও খাল বাঁচাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তখন এভাবে প্রকাশ্যে সরকারি খাল দখল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির বিষয়টি সচেতন মহলকে ক্ষুব্ধ করেছে। এর পাশাপাশি ঘোনাপাড়া মোড়ে অবস্থিত 'এসেনশিয়াল ড্রাগস'-এর নিজস্ব কোনো বর্জ্য বা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় কারখানার সব দূষিত পানি সরাসরি পাশের কৃষি জমিতে ফেলা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
দীর্ঘমেয়াদী এই জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে তাদের ঘরবাড়ির আঙিনায় পানি জমে আছে। এলাকার কবরস্থান সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে থাকায় স্বজনদের মৃতদেহ দাফন করতে গিয়েও চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
অন্যদিকে, কৃষিক্ষেত্রেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। ফসলি জমিগুলো দীর্ঘসময় পানিবন্দি থাকায় আবাদ প্রায় বন্ধ, এমনকি বৃষ্টির পানিতে রোপণ করা ধানের চারাও পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
চরবয়রা এলাকার কৃষকদের মতে, বর্তমান পাটের মৌসুমেও পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া যাচ্ছে না। আবদ্ধ খালের দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি দিয়ে বাধ্য হয়েই স্থানীয়দের দৈনন্দিন কাজ সারতে হচ্ছে, ফলে ঘরে ঘরে পানিবাহিত রোগ ও মারাত্মক চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
পরিস্থিতি নিরসনে গোবরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী সালাহউদ্দিন জানান, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ও খাল আটকে দেওয়ায় এই চার এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পাইপ ড্রেন বসিয়ে পানি বের করার সাময়িক চেষ্টা করা হলেও খালের জায়গায় নির্মিত পরিত্যক্ত স্কুল ভবনটির কারণে মূল প্রতিবন্ধকতা দূর করা যাচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই মানুষের ঘরে পানি উঠে যায়। তিনি মনে করেন, মাত্র ৩০০ মিটার জায়গা এস্কেভেটর দিয়ে কেটে দিলে পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে এবং ফসলি জমিগুলো রক্ষা পাবে।
ভোরের বাণী'র কাছে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জোর দাবি জানিয়েছেন— দ্রুত সরকারি খালের জায়গা থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হবে। খালটি পুনরায় মধুমতী নদীর সাথে যুক্ত করে জোয়ার-ভাটায় পানি চলাচল স্বাভাবিক করা না গেলে এই চার গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হবে এবং এলাকার কৃষি ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...