Logo Logo

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন

ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মতিউরের বিচার শুরু


Splash Image

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে এই বহুল আলোচিত মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালত এই অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার শুনানি উপলক্ষে এদিন সকালে আসামিকে কারাগার থেকে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগগুলো পাঠ করে শোনানো হয়। এ সময় বিচারক তার নিকট নিজেকে দোষী বা নির্দোষ দাবি করার বিষয়ে জানতে চাইলে মতিউর রহমান নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা জানান। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের আদেশ দেন।

আদালতে আসামি মতিউর রহমানের পক্ষে জামিনের আবেদন করে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও মো. বোরহান উদ্দিন। অন্যদিকে, জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম। উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আদালত জামিনের আবেদন সরাসরি নামঞ্জুর করেন।

দুদকের দাখিল করা মামলার চার্জশিটে (অভিযোগপত্র) উল্লেখ করা হয়, মতিউর রহমান তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার অর্জিত সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া সরকারি পদের অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ ও নানা দুর্নীতির মাধ্যমে মোট ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের পবিত্র কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল কেনাকে কেন্দ্র করে মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে আসেন। অনুসন্ধান শেষে জানা যায়, ইফাত এনবিআর সদস্য এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মতিউর রহমানের সন্তান।

এই ঘটনার পরেই মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিপুল বিত্তবৈভব ও সম্পদ অর্জনের বিষয়গুলো জনসমক্ষে আসতে শুরু করে এবং একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৪ জুন মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন। দীর্ঘ অনুসন্ধানে মতিউর ও তার পরিবারের নামে মোট ৬৫ বিঘা জমি, আটটি অভিজাত ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকানার তথ্য প্রমাণ পায় দুদক। এরপর আদালত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশে তাদের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব এবং শেয়ারবাজারের বিও হিসাব অবরুদ্ধ (ক্রোক) করা হয়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...