বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের জগাইরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কুলসুম বেগম ওই এলাকার মো. আবুল কালাম তাজেল আকনের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে কুলসুম বেগমের সঙ্গে তাঁর শাশুড়ি হোসনা ভানু এবং স্বামী আবুল কালাম তাজেলের বিরোধ চলছিল। শাশুড়ির প্ররোচনায় তাজেল প্রায়ই স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার দিন সকালে শাশুড়ির সঙ্গে কুলসুমের কথাকাটাকাটি হয়। দুপুরে স্বামী তাজেল খাবার খেতে এলে শাশুড়ি স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাজেল স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে শাশুড়ির সঙ্গে পুনরায় বাকবিতণ্ডা হলে ক্রমাগত নির্যাতন ও ক্ষোভে কুলসুম ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন বলে জানান প্রতিবেশীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের অভিযোগ, কুলসুমকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছেন স্বামী ও শাশুড়ি। পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে কীটনাশক পানের নাটক সাজানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরাল দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই স্বামী তাজেল আকন আত্মগোপনে চলে যান।
খবর পেয়ে রাজাপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...