Logo Logo

বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: সুনামগঞ্জে মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার।


Splash Image

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে হুমায়ুন আহমেদ (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


বিজ্ঞাপন


অভিযুক্ত হুমায়ুন আহমেদ উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের ইছব আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রতারগাঁও গ্রামের দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার পর সন্ধ্যায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবের বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হুমায়ুন আহমেদ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মসজিদের পাশের একটি পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সেই পরিবারের দিগেন্দ্র বর্মন সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস ও নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই কলেজছাত্রীর বিশ্বাস অর্জন করেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৪ মে রাতে অভিযুক্ত জোরপূর্বক ওই কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হবে বলে চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। ভয় ও সামাজিক সম্মানের কথা চিন্তা করে ভুক্তভোগী বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখেন।

এরপর গত ১৭ জুলাই দুপুরে আবারও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় অভিযুক্ত তার বর্তমান স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ভুক্তভোগীকে বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পরে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হলে তিনি সেই প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন।

ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন কলেজছাত্রী। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

এ ঘটনায় গত ২৬ জুলাই ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুসারেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটি থানায় রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বুধবার আদালতে পাঠানো হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...