বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করে মাদারীপুর জেলা পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকার একটি ফসলি জমির ঝোপের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় পরে জানা যায়, মরদেহটি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে শাম্পা খাতুনের। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।
তদন্তে জানা যায়, একটি মামলায় শাম্পার স্বামী কারাগারে থাকার সুযোগে মাদারীপুর আদালত চত্বরে ফারুক মোল্লার সঙ্গে শাম্পার পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সূত্রে শাম্পার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুটের পরিকল্পনা করে ফারুক। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাম্পাকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ঝোপে ফেলে রাখা হয়। এ সময় মায়ের সঙ্গে থাকা এক বছরের শিশু আবির যাতে কোনো প্রমাণ হিসেবে না থাকে, সেজন্য তাকে নির্মমভাবে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ফেলে দেয় ঘাতক ফারুক।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিহত শাম্পার বাবা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপরই পুলিশ ও র্যাব-৮ যৌথভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘাতক ফারুক মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিহত শাম্পার স্বর্ণের নাকফুল, রুপার গলার চেইন, একজোড়া জুতা ও আগুনে পোড়ানো ওড়নার অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ফারুক একজন পেশাদার অপরাধী; কয়েকমাস আগেও গাড়ি চুরির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, "গ্রেপ্তারকৃত ফারুক হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা সরাসরি স্বীকার করেছে। নিহতের ব্যবহৃত অলংকার ও আলামত জব্দ করা হয়েছে। নদীতে ফেলে দেওয়া শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...