বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত স্বপন বাগচি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাক গ্রামের মৃত ঠাকুর বাগচির ছেলে। নিহত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত বিশ্বজিৎ দেউড়ী ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেতরা গ্রামের ধীরালাল দেউড়ীর ছেলে। তিনি আরএফএল গ্রুপের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড 'ভিগো'-এর বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে পাইকগাছা এলাকায় কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলের সুবিধার্থে তিনি পাইকগাছা পৌরসভার হাসপাতাল মোড় এলাকার রামপ্রসাদ মণ্ডলের একটি ভাড়া বাসায় একই কোম্পানির সহকর্মী অন্তর সরকারের সঙ্গে রুমমেট হিসেবে বসবাস করতেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই গভীর রাতে ওই ভাড়া বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় বিশ্বজিৎকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার রাতে কক্ষে বিশ্বজিতের সঙ্গে তাঁর সহকর্মী অন্তর সরকারও ঘুমিয়ে ছিলেন। পরদিন সকালে বিছানায় বিশ্বজিতের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে মরদেহের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তবে ঘটনার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তাঁর রুমমেট অন্তর সরকার।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মামা বিপুল সরকার বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক তদন্ত পরিচালনা করতে গিয়ে নিখোঁজ অন্তর সরকারের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে স্বপন বাগচির নাম পায় পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগে ও পরে অন্তরের সঙ্গে স্বপনের ঘন ঘন ফোনালাপের প্রমাণ পাওয়ার পরই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপালগঞ্জ সদর থেকে স্বপনকে আটক করে অভিযানকারী দল।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আওয়াল কবির জানান, স্বপন বাগচিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিখোঁজ রুমমেট অন্তর সরকারের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত ঘাতকদের গ্রেপ্তারের সুবিধার্থে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিখোঁজ অন্তরকে খুঁজে পেতে এবং এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা মূল উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...