Logo Logo

সরকারি গুদামে মজুত আছে সাড়ে ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার: তথ্য উপদেষ্টা


Splash Image

প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “দেশে কৃষি মৌসুম সামনে রেখে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি গুদামে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। আমদানির পথে রয়েছে আরো ৮ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার।”


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, “এর বাইরে গত ২৪ আগস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পেয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার প্রস্তাব। ফলে কৃষকদের সার নিয়ে এবার সংকটে পড়তে হবে না।”

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, কৃষক কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য এরই মধ্যে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩৩ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। হাওরাঞ্চলে আগাম চাষের উপযোগী ব্রি-১১৮ জাতের ধানও উদ্ভাবন করা হয়েছে।

গুদামে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার

২৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশের সার গুদামগুলোতে মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ৪ লাখ ৮২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন, ডিএপি ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১০০ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন।

এ ছাড়া আমদানির পর্যায়ে রয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি, ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি এবং ৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি।

২৪ আগস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পেয়েছে আরো ৬০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি, ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি এবং ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি কেনার প্রস্তাব। সব মিলিয়ে মজুত, আমদানির পথে থাকা এবং অনুমোদিত সার যোগ করলে সরবরাহের ভিত্তি আরো শক্তিশালী হচ্ছে।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে সার মজুতের পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে একই সময়ে সার মজুত বেড়েছে।

কৃষক কার্ডে যুক্ত হচ্ছেন কৃষক

কৃষকদের তথ্যভিত্তিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে কৃষক কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় এখন পর্যন্ত ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩৩ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

কৃষকদের কাছে সরকারি কৃষিসেবা আরো সহজে পৌঁছে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে কৃষি সহায়তা ও প্রণোদনা ব্যবস্থাকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে এই তথ্যভান্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সরকার।

হাওরের জন্য নতুন ধানের জাত

হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য আগাম চাষ উপযোগী ব্রি-১১৮ ধানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। আগাম চাষের মাধ্যমে হাওরের বোরো ধান দ্রুত ঘরে তোলা এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে নতুন জাতটি ভূমিকা রাখতে পারে।

চার বছর পর শিক্ষকদের বকেয়া ভাতা

প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির তথ্যও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় চার বছর ধরে জমে থাকা অবসর ও কল্যাণ ভাতার জট কাটাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন থেকে প্রধানমন্ত্রী এ অর্থ পরিশোধ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ৪৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে ২০২২ সাল থেকে আটকে থাকা অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে পাবেন। পাশাপাশি কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩ হাজার ২০১টি আবেদনের বিপরীতে ৪৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে।

এবার অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সুযোগ থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। ম্যানুয়াল ফাইলের নামে ফাইল আটকে রাখার সংস্কৃতিও বন্ধ করা হচ্ছে। এখন থেকে আইবাস প্লাস প্লাস ও ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এ প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...