বিজ্ঞাপন
প্রায় ১২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে সরকারি বিধি অনুসরণ না করে উন্নয়নকাজ ও পণ্য ক্রয়, দোকানঘর নির্মাণ ও ভাড়ার তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন না করা, অতিরিক্ত বা অনিয়মিত ভাউচার ব্যবহারের অভিযোগ, দোকানভাড়ার আয়ের ওপর প্রযোজ্য আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া, জমির নথি হালনাগাদ না থাকা এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ ও পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ টেন্ডার বা কোটেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ না করে এসব ব্যয় করা হয়েছে বলে নিরীক্ষা দল আপত্তি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের দোকানঘর নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। সরকারি বিধি অনুসরণ করে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে কি না এবং দোকানভাড়া থেকে পাওয়া আয়ের সঠিক তথ্য হিসাবভুক্ত করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিরীক্ষা দল।
একই সঙ্গে অতিরিক্ত বা অনিয়মিত ভাউচার ব্যবহারের বিষয়েও প্রতিবেদনে আপত্তি রয়েছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের দোকানঘরের ভাড়ার ওপর প্রযোজ্য আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। এ বাবদ ২৪ লাখ ২০ হাজার ৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করেছে নিরীক্ষা দল।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়া ও ব্যয়ের ক্ষেত্রেও যথাযথ আর্থিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণেও কিছু অসঙ্গতি পেয়েছে নিরীক্ষা দল।
নিরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান শেখের নিয়োগসংক্রান্ত নথিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাঁর নিয়োগ বিধি অনুযায়ী হয়েছে কি না, পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিজ্ঞতা এবং চাকরির ধারাবাহিকতার বিষয়গুলো যাচাই করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের জমির তথ্য নিয়েও নিরীক্ষায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রেকর্ড অনুযায়ী বিদ্যালয়ের নামে ২ দশমিক ৭৮ একর জমি রয়েছে। তবে খারিজ, রেকর্ড ও অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত নথি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের জমির নামজারি ও ভূমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র হালনাগাদ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নিরীক্ষা দল। প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ও পাশের হার সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ফলাফল বাড়াতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদান, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত পরিচালনা কমিটির সভায় উপস্থাপন, ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের আর্থিক, প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে একাধিক অনিয়ম ও অসঙ্গতি চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অনিয়ম সংশোধন এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে নিরীক্ষা দল।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রূপাপাত বামন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান শেখের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...