Logo Logo

জনদুর্ভোগে কাঠপট্টি আবাসন খেয়াঘাট,

স্থায়ী ঘাট না থাকায় চরম ভোগান্তিতে শত শত মানুষ


Splash Image

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি পৌরসভার ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম কাঠপট্টি আবাসন খেয়াঘাট। দীর্ঘদিন ধরে এ খেয়াঘাটে কোনো স্থায়ী ঘাট না থাকায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীদের।


বিজ্ঞাপন


নদীর পাড়ে নেমে কাদামাটি ও পিচ্ছিল ঢাল বেয়ে নৌকায় উঠতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাঠপট্টি আবাসন এলাকার শত শত মানুষ প্রতিদিন এই খেয়াঘাট ব্যবহার করে নদী পার হয়ে ঝালকাঠি শহরে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এছাড়া দৈনন্দিন প্রয়োজন, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কাজে শহরে আসা মানুষেরও অন্যতম ভরসা এই খেয়াঘাট।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাটে নেই কোনো পাকা বা স্থায়ী অবকাঠামো। যাত্রীদের নদীর পাড়ে সরাসরি নেমে নৌকায় উঠতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে এবং পাড় কাদাময় ও পিচ্ছিল হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার জন্য স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সিঁড়ি তৈরি করেছেন। সেই সিঁড়ি ব্যবহার করেই ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় উঠছেন ও নামছেন মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলছে খেয়াপারের কার্যক্রম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগুরুত্বপূর্ণ এই খেয়াঘাট থেকে ঝালকাঠি পৌরসভা প্রতিবছর ইজারা বাবদ এক লাখ টাকারও বেশি অর্থ আদায় করছে। চলতি বছরও বাহাদুর হাওলাদার এক লাখ টাকায় খেয়াঘাটটি ইজারা নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। অথচ ইজারার অর্থ আদায় হলেও যাত্রীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য স্থায়ী ঘাট নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঝালকাঠি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিক হাওলাদার বলেন, “এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও নানা প্রয়োজনে এই খেয়া ব্যবহার করেন। কিন্তু একটি স্থায়ী ঘাট না থাকায় মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। পৌরসভা ইজারা থেকে টাকা নিচ্ছে, অথচ যাত্রীদের জন্য ন্যূনতম সুবিধাটুকুও নিশ্চিত করা হচ্ছে না।”

৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইসরাফিল শিকদার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কাঠপট্টি আবাসন খেয়াঘাটে একটি স্থায়ী ঘাট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত এখানে একটি নিরাপদ ও টেকসই ঘাট নির্মাণ করা প্রয়োজন। তা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু বর্ষা মৌসুমেই নয়, বছরের প্রায় পুরো সময়ই ঘাটটির দুরবস্থা থাকে। জোয়ার-ভাটার কারণে নদীর পাড়ের মাটি সরে গিয়ে কোথাও কোথাও আরও খাড়া ও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। অস্থায়ী কাঠের সিঁড়িটিও টেকসই নয়। এতে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ও যাত্রীদের পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি তাদের।

এ অবস্থায় কাঠপট্টি আবাসন খেয়াঘাটে দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সিঁড়ি, যাত্রী ওঠানামার প্ল্যাটফর্ম ও নিরাপদ নৌযান সংযোগ ব্যবস্থা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে খেয়াঘাট থেকে আদায় করা ইজারার অর্থের একটি অংশ যাত্রীসেবার অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করার দাবি তাদের।

এবিষয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসক জুলিয়া সুকায়নার বক্তব্যের জন্য তার অফিসে গেলে পাওয়া যায়নি এরপর তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত স্থায়ী ঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেবে এবং প্রতিদিনের এই জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...