Logo Logo

জালিয়াতির অভিযোগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে পুতুলের পদত্যাগ


Splash Image

ছবি : সংগৃহিত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল)। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


প্রতিবেদনে বলা হয়, অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে জাতিসংঘের সংস্থাটি এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের তদন্তের মুখে তিনি পদত্যাগ করলেন।

২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই তার পরিবার ও রাজনৈতিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের জন্য ডাব্লিউএইচও-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সায়মা ওয়াজেদকে গত বছরের শেষের দিকে বাধ্যতামূলক অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানো হয়। এর আগে মার্চ মাসে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও দুর্নীতির মামলা দায়ের করে।

ডাব্লিউএইচও-এর অভিযোগ অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদ চীন সফরকালে আর্থিক জালিয়াতি করেছেন এবং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশে অবৈধভাবে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন সায়মা ওয়াজেদ। তার আইনজীবীদের দাবি, চীন সফরের বিষয়টি ছিল মূলত রুটিন খরচের বিল তোলার সময় একজন সহকারীর একটি সামান্য প্রশাসনিক ভুল (যার পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার)। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বিষয়টি ডাব্লিউএইচও প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসকে আগেই জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি নির্ধারিত জমি পাওয়ার যোগ্য ছিলেন এবং তা ডাব্লিউএইচও-এ যোগদানের আগেই অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ডাব্লিউএইচও প্রধান তেদরোসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ লেখেন, “আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্যই আমি আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং আমি আন্তরিকতার সঙ্গেই তা পালন করেছি।”

তিনি আরো লেখেন, “যেহেতু আপনি আমার দায়িত্বগুলো কার্যকরভাবে পালন করতে বাধা দিয়ে চলেছেন, তাই ডাব্লিউএইচও-এর আপনার নেতৃত্বের প্রতি আমার সব আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে গেছে। তদুপরি, আমাকে অবৈতনিক ছুটিতে রাখার আপনার সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।”

সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ডাব্লিউএইচও আনুষ্ঠানিকভাবে সায়মা ওয়াজেদকে বরখাস্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সূত্রের তথ্যানুযায়ী, জাতিসংঘের সংস্থাটি আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করবে, ডিসেম্বরে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করবে এবং আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী স্বাস্থ্য নীতি নির্ধারকদের মধ্যে আঞ্চলিক পরিচালকরা অন্যতম। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে রোগ ও জরুরি অবস্থার মোকাবিলা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে ডাব্লিউএইচও-এর নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা প্রতি পাঁচ বছর পর পর তাদের ভোট দিয়ে আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত করেন।

তথ্যসূত্র: ইউএস নিউজ

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...