বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুকসুদপুর থানার বাঘাদিয়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করে এসআরবি-৬-এর সিপিসি সদর কোম্পানি (গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল।
এসআরবি-৬-এর পাঠানো প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, আটককৃত বিশু মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। অভিযোগে জানা যায়, ইতালি পাঠানোর কথা বলে তিনি এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে পাসপোর্টসহ প্রথম দফায় ২ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে আরও ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে উক্ত ভুক্তভোগীকে ঢাকা থেকে বিমানে দুবাই এবং সেখান থেকে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর বিশু মন্ডলের সহযোগীরা তাকে একটি আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের হাতে তুলে দেয়। সেখানে ভুক্তভোগীর ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তা স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আদায় করা হয়।
টাকা আদায়ের পর তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে পুনরায় তাকে মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় আবারও নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় চরম সর্বস্বান্ত হয়ে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে গোপালগঞ্জের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন দাখিল করেন। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় মুকসুদপুর থানায় বিশু মন্ডলসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
এসআরবি-৬ সূত্রে জানানো হয়েছে, বিশু মন্ডলের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন থানায় মানবপাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
আটকের পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য বিশু মন্ডলকে মুকসুদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...