বিজ্ঞাপন
বন বিভাগ জানিয়েছে, গঙ্গা শুশুক পৃথিবীর বিপন্ন প্রাণীর তালিকাভুক্ত একটি জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী। স্থানীয় কেউ বিষয়টি তাদের জানালে শুশুকটি উদ্ধার করে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করা সম্ভব হতো।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের কাঠপট্টি সেতুর কাছে আবদুর রশিদ গৌড়ার ইটভাটার পাশ দিয়ে প্রবাহিত নিম্ন কুমার নদে বেলা ৩টার দিকে গোসল করতে যান স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ও তরুণ। এ সময় নদীর স্রোতে একটি শুশুক ভেসে যেতে দেখে তারা সেটিকে উদ্ধার করে নদীর পাড়ে তোলেন। পরে প্রাণীটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ছবি তুলে আবার নদীতে ভাসিয়ে দেন তারা। পরবর্তী সময়ে ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি অনেকের নজরে আসে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাদারীপুর সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘রাস্তি ইউনিয়নের নিম্ন কুমার নদে আমরা এলাকার কয়েকজন ছেলে গোসল করছিলাম। এ সময় বিপন্ন প্রজাতির মৃত শুশুকটি দেখতে পাই। পরে ছবি তুলে সেটি মৃত নিশ্চিত হয়ে নদীতে ভাসিয়ে দিই। এরপর আমাদের তোলা ছবিটি কেউ কেউ ফেসবুকে প্রচার করেন। এতে বিষয়টি অনেকের নজরে এসেছে।’
প্রাণীবিশেষজ্ঞদের মতে, গঙ্গা শুশুকের পৃষ্ঠে আয়তাকার ও খাঁজযুক্ত পৃষ্ঠপাখনা থাকে। স্ত্রী শুশুক সাধারণত পুরুষের তুলনায় আকারে বড় হয়। এদের গায়ের রং হালকা বাদামি, চকলেট বাদামি, গাঢ় ধূসর কিংবা হালকা নীলাভ হতে পারে। অন্যান্য নদীজ শুশুকের মতো এদের মুখ লম্বা ও সরু এবং দাঁত ধারালো ও সূচালো। গোলাকার উদর ও আয়তাকার পৃষ্ঠপাখনার কারণে অন্যান্য ডলফিনের তুলনায় এদের শরীর কিছুটা স্থূল দেখায়। এদের পাখনা ও লেজের পাখা বড় এবং প্রশস্ত।
গঙ্গা শুশুকের মাথায় বড় আকৃতির মেলন অঙ্গ রয়েছে, যা প্রতিধ্বনির মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয়ে সহায়তা করে। এরা ভালোভাবে দেখতে না পারায় ঘোলা পানিতে চলাচলের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। এদের চোখও সাধারণত ছোট হয়ে থাকে। একটি পূর্ণবয়স্ক গঙ্গা শুশুক সাধারণত ২ দশমিক ২ থেকে ২ দশমিক ৬ মিটার (৭ থেকে ৮ ফুট) লম্বা হয়। এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে বয়স্ক শুশুকটি ছিল ২৮ বছর বয়সী একটি পুরুষ প্রাণী, যার দৈর্ঘ্য ছিল ১৯৯ সেন্টিমিটার। তবে ধারণা করা হয়, এরা সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
মাদারীপুর বন্য প্রাণী সংরক্ষণ পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ‘এই প্রাণীটি গাঙ্গেয় শুশুক নামে পরিচিত। এটি মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত। বর্তমানে জেলেদের বিভিন্ন জালে আটকা পড়ে এরা গুরুতর আহত হচ্ছে। কোনো কোনো সময় এদের শিকারও করা হয়। এক শ্রেণির দুষ্কৃতকারী এই প্রাণীর তেল দিয়ে কবিরাজি ব্যথানাশক ওষুধ তৈরি করে। মহাবিপন্ন এই প্রাণী সংরক্ষণে বন বিভাগকে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’
মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ছবিটি দেখে আমরা বুঝতে পেরেছি, এটি গাঙ্গেয় প্রজাতির গঙ্গা শুশুক। এই প্রাণীটি পৃথিবীর বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। কেউ আমাদের বিষয়টি জানালে আমরা শুশুকটি উদ্ধার করে মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটন করতে পারতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘জেলেদের জালে আটকা পড়ে অনেক সময় এই প্রাণী আহত হয়। গুরুতর আহত হলে কখনো কখনো মারা যায়। গঙ্গা শুশুক রক্ষায় জনসচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।’
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...