Logo Logo

গোপালগঞ্জ ক্লাব দখলের মিশন : নেপথ্যে কারা ?


Splash Image

ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ঘেঁষা সদর উপজেলার চেচানিয়াকান্দি এলাকায় মনোরম পরিবেশে কয়েক বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল ‘গোপালগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড (জিসিএল)’। সূচনালগ্নে এটিকে জেলার অন্যতম প্রধান সামাজিক ক্লাব হিসেবে প্রচার করা হলেও, এর আড়ালে চলা অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। এবার ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সেই ক্লাবটি অবৈধভাবে দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে অন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয়দের অভিযোগ এবং বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ‘আভিজাত্যের’ লেবাসে সাধারণ মানুষের জন্য এই ক্লাবের দরজা ছিল বন্ধ। সদস্যপদ কেবল প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ক্লাবের ভেতরে নিয়মিত বসতো মদ্যপান ও জুয়ার আসর। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সরাসরি ছত্রছায়ায় থাকা ক্লাবটি মূলত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ দুর্গে পরিণত হয়েছিল। ভয়ে কেউ এসবের প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার পর পাল্টে যায় গোপালগঞ্জ ক্লাবের চিত্রও। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কোনো প্রকার নির্বাচন ছাড়াই অনিয়মতান্ত্রিক কমিটির মাধ্যমে এটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। ৫ আগস্টের পর জনরোষের ভয়ে ক্লাবের তৎকালীন শীর্ষ নেতারা গা ঢাকা দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে ক্লাবটি সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন ও নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ক্লাবের কোটি টাকার সম্পদ ও অবকাঠামো কুক্ষিগত করতে মাঠে নেমেছে নতুন একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। কোনো প্রকার নির্বাচন বা আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করেই তারা ক্লাবটি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। নতুন এই দখলদারদের নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, "আমরা এক গোষ্ঠীর হাত থেকে ক্লাবটি মুক্ত হতে না হতেই অন্য গোষ্ঠীর দখলের খবর শুনছি। আমরা চাই ক্লাবটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠুক, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত আড্ডাখানা নয়।"

শহরবাসীর দাবি:

* ক্লাবের যাবতীয় কার্যক্রম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।

* অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা রুখতে জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

*অনির্বাচিত বা পেশিশক্তির বদলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির হাতে ক্লাবের দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।

গোপালগঞ্জ ক্লাবের মতো একটি প্রতিষ্ঠান যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনৈতিক আখড়া হিসেবে ব্যবহৃত না হয় এবং এটি যেন প্রকৃত অর্থেই একটি সুস্থ সামাজিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়— এখন এটাই জেলার সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...