বিজ্ঞাপন
ভোট প্রদান শেষে মিন অং হ্লাইং বলেন, "আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিচ্ছি। পুরো প্রক্রিয়াটি সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা আমাদের নাম কলঙ্কিত হতে দিতে পারি না।" উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় পর জান্তা সরকার এই নির্বাচনের আয়োজন করলেও আন্তর্জাতিক মহলে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন রয়েছে।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জান্তা-পরিচালিত এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইয়াঙ্গুনের কামায়ুত টাউনশিপের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোরের দিকেই কার্যক্রম শুরু হতে দেখা গেছে। বিশেষ বিষয় হলো, এই কেন্দ্রটি ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে কারাবন্দি নেত্রী অং সান সু চির পরিত্যক্ত বাসভবনের কাছাকাছি অবস্থিত।
২০২১ সালে নোবেলজয়ী অং সান সু চির বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই মিয়ানমার চরম অস্থিরতা ও সহিংসতার কবলে পড়ে। একদিকে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ, অন্যদিকে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের মার্চে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি দেশটির মানবিক পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা দেশে খাদ্য সংকটসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখতে গবেষক ও ত্রাণকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানের পর থেকে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গৃহযুদ্ধ এবং চরম মানবিক বিপর্যয়ের মাঝে এই নির্বাচন আয়োজন মূলত জান্তা সরকারের ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়ার একটি চেষ্টা মাত্র। তবে বিরোধী পক্ষ এবং সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ এই নির্বাচনকে বর্জন করেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...