বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আশির দশকে ইরাকের সঙ্গে ইরানের আট বছরব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপের সঙ্গে আমাদের বর্তমান সম্পর্কের অবস্থা ইরাক যুদ্ধের চেয়েও খারাপ। সে সময় পরিস্থিতি অন্তত পরিষ্কার ছিল—তারা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে আমরাও পাল্টা জবাব দিতাম। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধটি বহুমাত্রিক।”
তার মতে, পশ্চিমা শক্তিগুলো এখন সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ইরানের নিরাপত্তা, জনজীবন, রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে ফাটল ধরাতে বেশি সক্রিয়। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান যাতে স্বনির্ভর হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, সেজন্যই চারপাশ থেকে এই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেন যে, আগের তুলনায় ইরান এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি বলেন, “আমাদের অতীত দুর্বলতাগুলো এখন আর নেই। সৈন্য সংখ্যা এবং অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র—উভয় ক্ষেত্রেই আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলে এবার কোনো হামলা হলে আমাদের জবাব হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিপুণ ও সুনির্দিষ্ট।”
উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে নিজেদের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়েছিল ইরান। ওই হামলায় ইরানের পরমাণু স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি দেশটির সেনাপ্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, যখন সেই হামলা চালানো হয়েছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পরমাণু বিষয়ক সংলাপ চলছিল। পরবর্তীতে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও পরমাণু ইস্যুটি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...