বিজ্ঞাপন
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। সোমবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কেসিএনএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার কোরীয় উপদ্বীপের পশ্চিম দিকে সাগরের ওপর দিয়ে নির্ধারিত পথ ধরে উড়ে গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই সফলতায় গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কিম জং উন।
তিনি বলেন, বর্তমানে উত্তর কোরিয়া নানামুখী নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
কিম আরও ঘোষণা করেন যে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক যুদ্ধ সক্ষমতাকে 'সীমাহীন' উচ্চতায় নিয়ে যেতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফস জানিয়েছে, রোববার সকাল ৮টার দিকে পিয়ংইয়ংয়ের নিকটবর্তী সুনান এলাকা থেকে একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে।
সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এই সামরিক তৎপরতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন নির্মাণসহ উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। সিউলভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরীক্ষাকৃত এই উন্নত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রচলিত এবং পারমাণবিক—উভয় ধরনের অস্ত্র বহনে সক্ষম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের শুরুতে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই কিম জং উন দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি তুলে ধরতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। গত সপ্তাহেও কিমকে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি কন্যাসহ একটি পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণ কাজ এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা পরিদর্শন করতে দেখা গেছে।
সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও নজর দিচ্ছেন কিম। কেসিএনএ জানিয়েছে, একই দিনে (রোববার) কিম জং উন একটি নতুন কাগজকলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও অংশ নেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, নববর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়া আরও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...