বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে আমিরাত সরকার জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পর তারা ইয়েমেনে আর কোনো সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে না এবং দেশটিতে অবস্থানরত সব আমিরাতি সেনাকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) সঙ্গে আমিরাতের ঘনিষ্ঠতা সৌদি আরবের জন্য বিরাট অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ ইস্যুতে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক তিক্ততা এবং আস্থার সংকট গত মঙ্গলবার চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৌদি সেনাবাহিনী আবুধাবিকে সরাসরি জানিয়েছিল যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সেনাদের ইয়েমেন ত্যাগ করতে হবে। সৌদির এই নজিরবিহীন আল্টিমেটাম এবং সামরিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত আমিরাত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
ইয়েমেনে এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদী সৌদিতে আশ্রয় নেন। এরপর হুথি বিদ্রোহীদের দমন ও হাদীর শাসন পুনঃস্থাপনের জন্য সৌদি আরব, আমিরাত এবং ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হয়।
২০১৫ সাল থেকে এই জোট ইয়েমেনে বিমান হামলা ও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও হুথি বিদ্রোহীদের পুরোপুরি দমনে জোটের সফলতা সীমিত হয়েছে। পাশাপাশি জোটের অংশীদারদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ও কৌশলগত উদ্দেশ্য নিয়ে বিভেদ দেখা দেয়।
২০১৯ সাল থেকে আমিরাত কৌশলে জোট থেকে তাদের সেনাসংখ্যা কমাতে শুরু করলেও মৌখিক সমর্থন অব্যাহত রাখে। একই সঙ্গে আমিরাত সমর্থিত এসটিসি যোদ্ধারা দক্ষিণ ইয়েমেনে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা মূলত সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমিরাতের পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে, সৌদি আরব এককভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করবে নাকি নতুন কোনো কৌশলের দিকে এগোবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...