Logo Logo

ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চ এর আত্মপ্রকাশ


Splash Image

ঝালকাঠিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অনুপ্রাণিত হয়ে ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে তরুণদের সৃজনশীল ও প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্ম ‘ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চ’-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠি কালেক্টরেট চত্বরে মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে অবসরপ্রাপ্ত মেজর এম. এ. জলিল রচিত ‘অরক্ষিত স্বাধীনতা, পরাধীনতা’ বইটি নিয়ে পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শহীদ ওসমান হাদীর বোন মাসুমা হাদী। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন,

“আমার সবকিছুই ছিল ওসমান। যে রাষ্ট্রে সার্বভৌমত্বের মাথায় গুলি লাগে, অথচ অপরাধীরা ধরা পড়ে না—সেই রাষ্ট্রে আমরা ন্যায়বিচার চাই। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। তবুও ইনসাফের কথা বলার কারণেই আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। নির্বাচনের আগেই এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

পাঠচক্র শেষে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন খালেদ সাইফুল্লাহ। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ঝালাকাঠি ইনসাফ মঞ্চ হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অনুপ্রাণিত হয়ে ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঝালকাঠির তরুণদের একটি সৃজনশীল ও নাগরিক উদ্যোগ।

ঘোষণাপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়—

“ইনসাফ ছাড়া রাষ্ট্র টেকে না, ন্যায়বিচার ছাড়া সমাজ সুস্থ থাকে না, আর তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পরিবর্তন স্থায়ী হয় না। এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের পথচলা।”

এতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চ কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন নয় এবং এটি কোনো ক্ষমতার মঞ্চও নয়। এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান এবং পাঠচক্র, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সচেতন সমাজ গড়ে তোলার একটি প্ল্যাটফর্ম।

ঘোষণাপত্রে ইনসাফ, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন থাকার অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে অন্যায়, নিপীড়ন ও রাষ্ট্রীয় অবিচারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও নৈতিক প্রতিবাদ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। তরুণদের মধ্যে দায়বদ্ধতা ও সচেতনতা বাড়াতে পাঠচক্র, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদার করার কথাও বলা হয়। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সচেতন ভূমিকা রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঘোষণাপত্রে শহীদদের স্মরণ করে বিশেষভাবে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, তাঁর হত্যা কেবল একজন মানুষকে হারানোর ঘটনা নয়; এটি দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি কঠিন প্রশ্ন।

অনুষ্ঠান শেষে শহীদ ওসমান হাদীর স্মরণে স্লোগান দেওয়া হয়। ইসলামিক সংগীত পরিবেশন এবং মুড়ি ও বাতাসা বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...