বিজ্ঞাপন
সোমবার(১২ জানুয়ারি )বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দের ৫০ ভাগ এমপি সাহেব নিজেরা রাখেন, ২৫ ভাগ নেয় তাদের সহযোগীরা, ২০ ভাগ ঠিকাদারদের পকেটে যায় আর কাজের জন্য অবশিষ্ট থাকে মাত্র ৫ ভাগ। এই ৫ ভাগ দিয়ে কোনো এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
পানিশ্বর এলাকার রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন,
পানিশ্বরের জোয়ার সরাইল ও আশুগঞ্জজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই এলাকার মানুষ যাকে ভোট দিয়ে জিতায়, তিনিই এমপি হন। আপনারা আমাকে বিশ্বাস করলে, আমিও আপনাদের বিশ্বাস ভাঙবো না। আপনারা যেমন আমার বাবাকে জিতিয়েছেন, ইনশাল্লাহ আমাকেও জিতাবেন।
এমপিদের আর্থিক অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এমপি যদি সৎ হয়, তাহলে সরকারি বা বেসরকারি কোনো কাজেই চুরি হয় না। সরকারি দল হোক বা স্বতন্ত্র—সব এমপির বরাদ্দ সমান। চুরির মূল কারণ এমপির অসততা। এমপি সৎ হলে কোনো ঠিকাদারের বাপেরও সাধ্য নেই টাকা আত্মসাৎ করার।
তিনি এলাকার প্রবাসী জনগোষ্ঠীর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসীরা দেশের ও গ্রামের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সেই পরিবার, বাজার ও উন্নয়ন সচল থাকে। প্রবাসীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া একজন এমপির নৈতিক দায়িত্ব।
ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে আবেগঘন বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, আমার পরিবারের কেউ দেশে নেই, আত্মীয়স্বজন সবাই বিদেশে। তাই আমার কোনো পিছুটান নেই, কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে ফল নেওয়ার চেষ্টা করবে না। উল্টো বিদেশে থাকা আত্মীয়রা আমাকে সামান্য সহযোগিতা করছে। তারা জয়ী হওয়ার পর দেশে এসে সুবিধা নেবে না। সেই ফল পাবে আমার এলাকার মানুষ।
নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ আগামী ২২ তারিখ প্রতীক চূড়ান্ত হবে। হাঁস মার্কাই আমার লক্ষ্য। আমরা চেষ্টা করবো হাঁস মার্কাতেই নির্বাচন করতে।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি এমপি হতে চাই আপনাদের সেবক হিসেবে, শাসক হিসেবে নয়। রাজনীতিকে ব্যবসা নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখতে চাই।
এসময় স্থানীয় বিএনপি সাবেক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...