তুহিন খান, অনিক রায় ও নাজিফা জান্নাত।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায়, সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব তুহিন খান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত এই নতুন উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মেঘমল্লার বসুও ‘জনযাত্রা’র সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী ও বিকল্প রাজনৈতিক চর্চার সূচনা করাই এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য। এ উদ্যোগের নেপথ্যে প্রগতিশীল শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা যুক্ত থাকবেন। তারা মূলত দিকনির্দেশনার ভূমিকা পালন করবেন, আর সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেবেন তরুণরাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেঘমল্লার বসু বলেন, “নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ার প্রস্তুতি চলছিল। এখনই এর বেশি কিছু বলতে চাই না।” তিনি নিশ্চিত করেন, ১৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্ল্যাটফর্মটির আত্মপ্রকাশ হবে এবং এর নাম হবে ‘জনযাত্রা’।
উদ্যোক্তারা জানান, গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের ধারায় একটি রাজনৈতিক দল গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এই প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছর ‘প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে সক্রিয় থেকে নীতি সংলাপ, নাগরিকদের সংগঠিত করা, বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে রূপ নিতে পারে। এর আগে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়ন করা হবে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির গঠনতন্ত্র তৈরির কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্তের পর দলটির অন্তত ১৬ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেন। তাঁদের কয়েকজন পর্যায়ক্রমে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে পদত্যাগী নেতাদের একজন, এনসিপির সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন বলেন, “আমি এখনো কোনো প্ল্যাটফর্ম বা দলে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিইনি।”
এই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক ছাত্রনেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্ল্যাটফর্মটির মূল দায়িত্বে থাকবেন তরুণরা। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক আন্দোলনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা নেপথ্যে থেকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেবেন। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন ছাত্রনেতা, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীরাও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকে পরিচয় প্রকাশ না করেই কাজ করবেন, কেউ কেউ ছদ্মনামও ব্যবহার করবেন।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতি চলছিল। একাধিক সভা ও সমাবেশের ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
নতুন এই উদ্যোগ সম্পর্কে অনিক রায় বলেন, বিভিন্ন সময় ব্যক্তি উদ্যোগে আন্দোলনে যুক্ত মানুষ, ছাত্রসংগঠনের নেতা এবং নানা পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই ‘জনযাত্রা’কে সাজানো হচ্ছে। শুরুতে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে, পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আরও অনেকেই এতে যুক্ত হবেন। নেতৃত্বে কারা থাকবেন—এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সময় হলে সব জানানো হবে। জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক, নির্বাচিত ছাত্র সংসদের নেতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা অনেকেই এতে থাকবেন।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...