বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ প্রার্থী, সর্বাধিক জট
এবার সুনামগঞ্জ–৩ আসনে জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন এবং ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। কিন্তু যাচাই-বাছাই শেষ হতেই শুরু হয় নতুন নাটক—মনোনয়ন বাতিল ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ ঘিরে একের পর এক আপিল মামলা।
সাতটি আপিল মামলায় নির্বাচন কমিশন মুখোমুখি
মনোনয়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে মোট ৭টি আপিল মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে
৪টি মামলা দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত,
এবং ৩টি মামলা মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার দাবিতে।
এই সাতটি মামলাই এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে মাঠের রাজনীতির পাশাপাশি আদালতকেন্দ্রিক তৎপরতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।
বিএনপি প্রার্থীকে ঘিরে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ
সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদ। তাঁর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে হলফনামায় তথ্য গোপনের দাবি তুলে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন নির্বাচন কমিশনে ৮ জানুয়ারি আপিল মোকদ্দমা নং–৪৩১ দায়ের করেন।
একই অভিযোগে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইয়াসীন খান দায়ের করেন আপিল মোকদ্দমা নং–৫৪১।
এর পাল্টা জবাবে
কয়ছর এম আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে আপিল মোকদ্দমা নং–৫৮০ দায়ের করেন।
একই অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ দায়ের করেন আপিল মোকদ্দমা নং–৪৯৮।
মনোনয়ন ফিরে পেতে তিন প্রার্থীর আপিল
এদিকে মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় তা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন আরও তিনজন প্রার্থী—
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (আপিল নং–৪৩৯),
স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ (আপিল নং–৪৭৮),
স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ (আপিল নং–৫৬৬)।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলী মনোনয়ন বাতিল হলেও তিনি আপিল করেননি।
মাঠে রাজনীতি, আড়ালে আইনি লড়াই
দ্বৈত নাগরিকত্ব বিতর্কে জড়ানো কয়ছর এম আহমেদ ও ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন—উভয়ই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মাঠে তাঁরা দুজনই শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। ফলে তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চাপা উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা। ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের পরিবর্তে প্রার্থীরা এখন অনেকটাই ব্যস্ত মামলার শুনানি ও আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শে।
মামলা জটমুক্ত তিন প্রার্থী
এই আইনি জটিলতার বাইরে রয়েছেন—
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহীনুুর পাশা চৌধুরী,
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মুশতাক আহমেদ,
এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইয়াসীন খান।
তাঁদের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ নেই।
প্রার্থীদের বক্তব্য
জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইয়াসীন খান বলেন,
“নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রার্থীদের হলফনামায় প্রদত্ত সব তথ্য সঠিক হতে হবে। ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই আমি আপিল করেছি।”
নাগরিক সমাজের উদ্বেগ
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক এম এ কাদির বলেন,
“সুনামগঞ্জ–৩ একটি ভিআইপি আসন। দীর্ঘদিন পর মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে। কিন্তু ভুল তথ্য দিয়ে যদি ভোটারদের বিভ্রান্ত করা হয়, তা দুঃখজনক হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা চাই। একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সাতটি আপিল মামলা এ আসনের জন্য মোটেও কাম্য নয়।”
সামনে যে সময়সূচি
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী—
১৮ জানুয়ারি: আপিল নিষ্পত্তির শেষ দিন
২০ জানুয়ারি: প্রার্থীতা প্রত্যাহার
২১ জানুয়ারি: প্রতীক বরাদ্দ
১২ ফেব্রুয়ারি: ভোট গ্রহণ
সবকিছু মিলিয়ে এখন সুনামগঞ্জ–৩ আসনের ভোটের মাঠের চেয়েও বেশি নজর নির্বাচন কমিশনের এজলাসে। আপিলের রায়ে কারা থাকছেন নির্বাচনী দৌড়ে, আর কারা ছিটকে পড়ছেন—সেই অপেক্ষায় পুরো নির্বাচনী এলাকা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...