বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির পদধারী একাধিক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে ও গোপনে বিদ্রোহী প্রার্থী সৈকতের পক্ষে কাজ করছেন। এতে দলীয় ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, গোলাম আজম সৈকত না থাকলে এখানে ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল নিশ্চিন্তভাবে জিতে যাবে। কিন্তু সৈকতের উপস্থিতি শঙ্কা বাড়াচ্ছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উদ্যোগ নিলেই হয়তো সমস্যার সমাধান হবে বলে ধারণা দুই প্রার্থীর ঘনিষ্ঠজনদের। স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী সমর্থন থাকায় শেষ পর্যন্ত তারা ভোট যুদ্ধে থাকলে শঙ্কায় পড়তে পারে ধানের শীষ। এমনটাই বলছেন স্থানীয় ভোটার ও দলের নেতাকর্মীরা।
রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় প্রচারণার মাধ্যমে সৈকত নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর এসব তৎপরতায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল ও আগ্রহ বাড়ছে।
বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম আজম সৈকত এ বিষয়ে বলেন, “আমি কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের পক্ষে নির্বাচন করছি। কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষকে এই আসনের জনগণ চায় না। যারা চাঁদাবাজির পক্ষে, দুর্নীতির পক্ষে, সন্ত্রাসের পক্ষে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের পুনর্বাসনের পক্ষে কাজ করবে জনগণ তাকে কখনই মেনে নিবে না। রাজাপুর–কাঁঠালিয়ার মানুষ পরিবর্তন চায়। সেই প্রত্যাশা থেকেই আমি মাঠে নেমেছি। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।”
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন বলেন, “নির্বাচনের আর মাত্র কিছুদিন বাকি, কিন্তু এখনো নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হয়নি। কার কী দায়িত্ব থাকবে, তা স্পষ্ট নয়। আমরা সাধারণ কর্মী, যিনি ডাকবেন তার ডাকে সাড়া দেব—এটাই স্বাভাবিক।”
বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, “রফিকুল ইসলাম জামাল ভাই কেন্দ্রীয় পদে আছেন। এখন থেকে তিনিই ঝালকাঠি জেলা বিএনপির রাজনীতি সমন্বয় করবেন। এই আসনে যদি কোনো মান-অভিমান থাকে, তা ভুলে ধানের শীষের প্রার্থীকে নিয়ে সবাই কাজ করবেন বলে আশা করি।”
ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “মনোনয়ন পাওয়া ও না পাওয়ার কারণে দলের ভেতরে একটি মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোমালিন্য ও ভয় কাজ করছে। আশা করি অতীত ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।”
এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে ঐক্যের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব না কমলে ধানের শীষের ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিলে এই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তির সুযোগ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সুবিধা আদায় করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে এই বিভাজন ধানের শীষের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...